সুবর্ণভূমি ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটাতে একটি সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া বা সমঝোতা স্মারক (MoU) তৈরি হলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এটি এখনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
তবে দুই দেশ এখনই কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারছে কি না, তা নিয়ে এখনও বড় ধরনের ধূম্রজাল রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, দুই পক্ষ কখন বা আদৌ কোনো চুক্তি চূড়ান্ত করবে, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ দুই দেশের মধ্যে এখনও বেশ কিছু জটিল বিষয় অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ও তেহরানের আলোচকরা একটি চুক্তির প্রাথমিক কাঠামোয় সম্মত হয়েছেন। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সতর্কতার সুর বজায় রাখেন।
তিনি জানান, খসড়া চুক্তির কয়েকটি সুনির্দিষ্ট "ভাষাগত বিষয়" নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনও দফায় দফায় আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির আওতাধীন ইউরেনিয়াম ‘সমৃদ্ধকরণ’ এবং তাদের কাছে থাকা ইউরেনিয়ামের মজুত সংক্রান্ত বিষয়গুলোই এখন প্রধান অন্তরায় হিসেবে দেখা দিয়েছে।
জেডি ভ্যান্স বলেন, আমরা এখনও চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি, তবে আমরা খুব কাছাকাছি আছি এবং আমাদের কাজ চলমান রয়েছে। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারছি না যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এটিতে স্বাক্ষর করবেনই, তবে এই মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ে আমরা আশাবাদী।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, এই সম্ভাব্য চুক্তির প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, চলতি সংঘাত সামাল দিতে প্রাথমিকভাবে ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো। এর পাশাপাশি ওমান উপসাগর ও পারস্য উপসাগরকে যুক্তকারী রণকৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ থেকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানকে সমস্ত মাইন অপসারণ করতে হবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর আরোপিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।
এর বিনিময়ে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে তাদের অবরোধ শিথিল করবে এবং ইরানকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বেশি খনিজ তেল বিক্রির অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এই সমঝোতাকে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখলেও ইরান এখনই একে ‘চূড়ান্ত’ বলে মানতে নারাজ। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, খসড়া টেক্সটটি এখনও চূড়ান্ত বা নিশ্চিত করা হয়নি এবং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এর বেশ কিছু ধারায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
পাশাপাশি ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে সরাসরি জানান, তেহরান শুধু মুখের কথা বা কোনো আশ্বাসে বিশ্বাসী নয়। তারা কেবল মার্কিন প্রশাসনের বাস্তব পদক্ষেপ দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে এবং ওয়াশিংটন আগে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ইরান একতরফা কোনো চুক্তি করবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের এই উত্তেজনা নিরসনে এটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবুজ সংকেত এবং ইরানের অনড় অবস্থানের কারণে পুরো চুক্তিটির ভবিষ্যৎ এখনো ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে।