সম্পাদকীয়
ছাত্রী হলের ওয়াশরুমে গোপন ক্যামেরার আগ্রাসন
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ‘২৪ হলের নারী শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুমে গোপন ভিডিও ধারণের ঘটনা কেবল একটি অপরাধ নয়, এটি একটি আবাসিক হলের দেয়ালের ভেতরকার নির্জনতা ও নিরাপত্তার ধারণার ওপর সরাসরি আঘাত। ক্যান্টিন কর্মী, যার প্রতিদিনের উপস্থিতি ছিল কাজের অংশ, সে বিশ্বাসটাকেই কাজে লাগিয়েছে ভয়াবহ একটি অপরাধ ঘটানোর জন্য।
ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিও ধারণের ঘটনাটি গত বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় ধরা পড়ে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এটি হয়তো দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। আরও ভয়াবহ ব্যাপার হলো, এই গোপন ভিডিওগুলো টেলিগ্রামের বিভিন্ন গ্রুপে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল। ঘটনাটি কেবল একটি হলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে সাইবার অপরাধে রূপ নিয়েছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তকে আটক করা ছাড়াও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছে। তাদের দাবি স্পষ্ট- যৌন হয়রানির ঘটনায় প্রশাসনের পূর্ববর্তী উদাসীনতা আর চলবে না।
প্রশাসনকে স্বীকার করতেই হবে যে, নারী আবাসিক হলের নিরাপত্তা ব্যর্থ হয়েছে। বহিরাগত ও সেবাদানকারী কর্মীদের প্রবেশে কার্যকর নজরদারির অভাব, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণের সীমাবদ্ধতা এবং কর্মীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর কোনো বিধিনিষেধ না থাকা- এই ফাঁকগুলোই অপরাধীকে সুযোগ দিয়েছে। হল প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন ও ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিলের কথা জানালেও, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা জরুরি।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি প্রথম ঘটনা নয়। ক্যাম্পাসে যৌন হয়রানির আগের ঘটনাগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া প্রশাসনের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি করেছে। প্রকৃত বিচার নিশ্চিত করতে হবে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে, পাশাপাশি হলগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বৈধ। ক্যাম্পাসের সব কার্যক্রম বন্ধ রেখে তারা বলছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পড়ালেখা নয়। প্রশাসনের এখন জবাবদিহিতার সময়। ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থীকে নিজের ওয়াশরুমকেও সন্দেহের চোখে দেখতে না হয়, সেজন্য প্রশাসনকে আজই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।