যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

অর্থাভাবে থমকে আছে জোড়া লাগা যমজ শিশুর চিকিৎসা: সহায়তার আবেদন

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই,২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই,২০২৬, ০১:১৭ পিএম
অর্থাভাবে থমকে আছে জোড়া লাগা যমজ শিশুর চিকিৎসা: সহায়তার আবেদন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামের নাহিদ ও সানজিদা দম্পতির কোলজুড়ে এসেছে বিরল এক জোড়া যমজ শিশু জয়নব ও উম্মে কুলসুম। জন্মের পর থেকেই শিশু দুটির বুক থেকে পেট পর্যন্ত একে অপরের সাথে যুক্ত। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশু দুটিকে আলাদা করার সম্ভাবনা দেখলেও চরম অর্থাভাবে থমকে আছে তাদের চিকিৎসা কার্যক্রম। তাই সন্তানদের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে বিত্তবান ও মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছে অসহায় পরিবারটি।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। তাদের দুটি মাথা, চারটি হাত ও চারটি পা রয়েছে, তবে বুক থেকে পেট পর্যন্ত জোড়া লাগানো। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করে তাদের আলাদা করা সম্ভব হতে পারে।

জন্মের তিন মাস পর শিশুদের পুনরায় ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও যাতায়াত ও চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের সামর্থ্য না থাকায় পরিবারটি এখনো ঢাকায় যেতে পারেনি।

শিশুদের বাবা নাহিদ হাসান আগে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করলেও বর্তমানে স্থানীয় একটি দোকানের সাধারণ কর্মচারী। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ডাক্তাররা আশা দিয়েছেন আমার মেয়েদের আলাদা করা সম্ভব। কিন্তু সেই চিকিৎসার খরচ তো দূরের কথা, এখন তাদের খাবার ও দুধ কেনার টাকাই জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছি।

শিশুদের মা সানজিদা আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, ওদের আলাদাভাবে কোলে নেওয়া যায় না। একজন একটু নড়াচড়া করলেই অন্যজন ভীষণ কষ্ট পায়। চিকিৎসার জন্য নিয়মিত ঢাকায় নেওয়া দরকার, কিন্তু সেই যাতায়াত ও পরীক্ষার খরচ আমাদের নেই।

শিশুদের আত্মীয় মাহতাব উদ্দিন জানান, এই দুই দেবশিশুকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে সরকার, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসার আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

চিকিৎসকদের মতে, জোড়া লাগা যমজ শিশুর জন্ম অত্যন্ত বিরল এক চিকিৎসা অভিজ্ঞতা। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে সফল অস্ত্রোপচারের সম্ভাবনা থাকলেও এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি, অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল এবং প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়।

এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী শিশু দুটির দ্রুত পরবর্তী চিকিৎসা শুরু করা জরুরি। যথাসময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে থাকলে তাদের আলাদা করার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে।

বিষয়টি নজরে আসার পর দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ জানান, শিশু দুটির চিকিৎসার জন্য উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরের মাধ্যমে দ্রুত আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)