স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরের ঝিকরগাছার বারবাকপুর গ্রামের এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচের ধারাবিবরণী (কমেন্ট্রি) এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচ চলাকালে স্বতঃস্ফূর্ত ও কৌতুকপূর্ণ আঞ্চলিক ভাষায় কমেন্ট্রি রাতারাতি ছড়িয়ে পড়ে নেটদুনিয়ায়।
ইতিমধ্যে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম মিলিয়ে ৫০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ দেখেছে এবং উপভোগ করেছে এই ভিডিওটি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ভিডিওটি তৈরির পেছনের গল্প, নিজেদের পরিচয় এবং অর্জিত আয় নিয়ে সামাজিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন কমেন্ট্রি করে আলোচনায় আসা মুখ সম্রাট টিপু সুলতান।
সম্রাট জানান, ভাইরাল হওয়া ম্যাচটি ছিল তাদের গ্রামেরই বারোপোতা মাঠের নিজেদের ভেতরের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ঘিরে। বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থক বন্ধুদের মাঝে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে বারবার গোল মিস করছিলেন দলের স্ট্রাইকার আশরাফুল।
খেলার উত্তেজনায় রাগের বশে মজা করেই আশরাফুলকে উদ্দেশ্য করে কিছুটা কৌতুকপূর্ণ ও অ্যাগ্রেসিভ মন্তব্য করা হয়েছিল। পুরো বিষয়টিই ছিল নিছক হাস্যরসাত্মক এবং দর্শকদের আনন্দ দেওয়ার জন্য। আমাদের কোনো খারাপ বা কাউকে ছোট করার উদ্দেশ্য ছিল না- বলেন সম্রাট টিপু সুলতান।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের বড় অংশই এটিকে কৌতুক হিসেবে গ্রহণ করেছেন। বন্ধুদের মধ্যেও এই ভাইরাল ডায়ালগ নিয়ে মজার পরিবেশ তৈরি হলেও আশরাফুল বা তাদের পরিবার বিষয়টি স্বাভাবিক ও ইতিবাচকভাবেই দেখছেন।
ভাইরাল এই ভিডিওর নেপথ্যে থাকা তিন বন্ধুই নিজ নিজ জায়গা থেকে পেশা ও পড়াশোনায় যুক্ত রয়েছেন।
ভিডিওটির মূল ভয়েস বা কমেন্ট্রেটর সম্রাট টিপু সুলতান যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে কর্মরত। নিজ পরিবারে বাবা-মা, ছোট ভাই, স্ত্রী এবং এক সদ্যজাত কন্যা সন্তান রয়েছে তার। ফেসবুক পেজ 'হৃদয় সুলতান সম্রাট' পরিচালনা করেন তিনি।
ভিডিওতে সম্রাট সুলতানের কমেন্ট্রির মূল কেন্দ্রবিন্দু ও আলোচিত স্ট্রাইকার আশরাফুল। তিনি বর্তমানে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত। বারবাকপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান আশরাফুলের পরিবারে বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই বড় ভাই রয়েছেন।
মেহরাব বর্তমানে যশোর সরকারি এমএম কলেজে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকে অধ্যয়নরত। ব্যক্তিগত জীবনে পিতৃহারা মেহরাবের পরিবারে রয়েছেন তার মা এবং বড় ভাই, যিনি ব্যাংক এশিয়ায় কর্মরত।
নেটদুনিয়ায় ব্যাপক সাড়া পাওয়ার পাশাপাশি এই ডিজিটাল প্রচারণাকে ভালো কাজে লাগাতে চান এই তরুণরা। তাদের ফেসবুক পেজ ‘হৃদয় সুলতান সম্রাট’ থেকে অর্জিত আয়ের পুরো অংশই আর্তমানবতার সেবায় ব্যয় করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
ফেসবুক থেকে পাওয়া প্রথম পেমেন্টের পুরো অর্থ দিয়ে স্থানীয় বারোপোতা বারবাকপুর ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিশুদের এক বেলার খাবার বিতরণ এবং স্থানীয় মসজিদ-মাদ্রাসায় অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
পরবর্তী সময়ে ফেসবুক থেকে আসা অর্জিত রেভিনিউ স্থানীয় অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে বণ্টন করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে এই সামাজিক সহায়তার পরিধি যশোর জেলার বাইরেও ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তারা।
দেশের শীর্ষস্থানীয় মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয়রাও তাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন। পাশাপাশি দেশের বড় বড় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও পেজগুলো এই অডিওটি ব্যবহার করায় নতুন করে অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন। অনুসারী ও দর্শকদের সমর্থন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও মানসম্মত ও সামাজিক বার্তামূলক কন্টেন্ট তৈরি করার আশা ব্যক্ত করেন এই তরুণরা।