এসিল্যান্ডের প্রতিবেদনে তথ্যগোপন-অসঙ্গতি
স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরে সরকারি জমিতে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা দখল করে নির্মাণকাজের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে আদালতে দাখিল করা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের প্রতিবেদনেও প্রকৃত তথ্য গোপন করা ও অসঙ্গতির অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
শনিবার (৮ আগস্ট) বেলা ১২ টার দিকে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাইফুল ইসলাম। এ সময় তার বড় বোন শাহানারা খাতুন, চাচা আব্দুর রাজ্জাক ও প্রতিবেশী মর্জিনা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, যশোরে শার্শা উপজেলার বেনাপোল পৌরসভায় ৮৮ নম্বর ভবেরবেড় মৌজায় একটি সরকারি জমির ওপর দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা রয়েছে। ওই রাস্তা দখল করে স্থানীয় মাসুম নামে এক ব্যক্তি তার নির্মাণাধীন ভবনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে ওই এলাকার প্রায় ৪০টি পরিবারের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে তারা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করলেও এখনও কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং শার্শা উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের পক্ষ থেকে আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে প্রকৃত তথ্য আড়াল করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জনসাধারণের চলাচলের পথ দখল করে ভবন নির্মাণে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলার বিচার চেয়ে গত ৩১ মার্চ প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেইসাথে চলাচলের রাস্তা ফিরে পাওয়ার দাবিতে যশোরের শার্শা দেওয়ানি আদালতে মামলা নম্বর ৪০/২০২৬ দায়ের করা হয়। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪, ১৪৫ ও ১৩৩ ধারায় পি-২২২/২৬ নম্বরের আবেদন করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
আদালতের নির্দেশে শার্শা উপজেলা ভূমি অফিস থেকে প্রতিবেদন দাখিল করা হলেও সেখানে নানা অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, সরকারি জমির ৬২১ নম্বর দাগ নিয়ে প্রতিবেদনে পরস্পরবিরোধী তথ্য দেওয়া হয়েছে। একদিকে নায়েবের প্রতিবেদনে দাগটি ১ নম্বর খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত নয় বলা হলেও, এসিল্যান্ডের প্রতিবেদনে ওই দাগে সরকারি জমি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল ও নির্মাণাধীন ভবনের মালিকের স্বার্থরক্ষায় ভূমি অফিসের প্রতিবেদনে পক্ষপাতের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
সেইসাথে স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও তোলা হয়।
ভুক্তভোগীরা সরকারি জমির প্রকৃত অবস্থান ও চলাচলের রাস্তার আইনগত স্টাটাস নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা উন্মুক্ত করার দাবি জানান। পাশাপাশি অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান তারা।