সুবর্ণভূমি ডেস্ক
সাগর উত্তাল থাকায় সামিটের এলএনজি টার্মিনালে থাকা কার্গো থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে টার্মিনালে থাকা এলএনজি কার্গোটিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ আরও কমে গ্যাস সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সামিটের টার্মিনাল দিয়ে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। পরে সাগর উত্তাল হয়ে উঠলে সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই কারণে টার্মিনালে থাকা কার্গোটিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল দিয়ে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সামিটের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্যাসের সামগ্রিক সরবরাহ আরও কমেছে। ফলে আগে থেকেই চলমান গ্যাস সংকট নতুন করে তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব বিভিন্ন পর্যায়ে পড়তে শুরু করেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় আবাসিক গ্রাহকদের রান্নার কাজে ভোগান্তি বেড়েছে। অনেক এলাকায় দিনের বড় একটি সময় চুলা জ্বলছে না। কোথাও আবার গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে স্বাভাবিকভাবে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না।
শুধু আবাসিক গ্রাহকই নয়, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় শিল্প-কারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পর্যাপ্ত গ্যাস না পেলে কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির প্রভাব পড়তে পারে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। বর্তমানে পিক আওয়ারে গড়ে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। সামিটের এলএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের ঘাটতি আরও বাড়লে লোডশেডিংয়ের পরিমাণও বেড়ে যেতে পারে।
ফলে একদিকে তীব্র গরমে বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং, অন্যদিকে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় রান্না ও শিল্প উৎপাদনে ভোগান্তি, দুই ধরনের সংকটে পড়তে পারেন গ্রাহকেরা। সামিটের এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় গ্যাস গ্রিডের সরবরাহ পরিস্থিতি চাপে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র- আমার দেশ