কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারকে (এসপি) উদ্দেশ করে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেছেন, ‘জনগণের জন্য এখন থেকে আমরা যা বলবো, আপনাদের তা-ই করতে হবে। এর পরও যদি আমি দেখি আপনারা তা করছেন না, তাহলে আপনাদের এ জেলায় থাকতে দেবো না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডিসি-এসপি নিরপেক্ষভাবে কাজ না করলে তাদের বিদায় করে দেওয়া হবে। বাংলাদেশের ভেতরে কুষ্টিয়া সদর আসন একটি আলাদা আসন।
`এখানকার (কুষ্টিয়ার) সরকার আমিই। কোনো সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ এখানে থাকতে পারবে না। কেউ চাঁদা চাইলে আমাকে দেখিয়ে দেবেন। কার বাবার কলিজা কত বড় হয়েছে, আমি দেখবো।’
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে কুষ্টিয়া শহরের ছয়রাস্তা মোড়ে সংসদ সদস্য আমির হামজার ওপর হামলার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে আমির হামজা ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন গণঅধিকার পরিষদ একটি সন্ত্রাসী ও গণধিকৃত পরিষদে পরিণত হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সন্ত্রাসীদের, বিশেষ করে গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়ার সভাপতি ও সেক্রেটারিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা না হলে কুষ্টিয়া ডিসি কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।’
শনিবার (১৫ আগস্ট) গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে সংঘর্ষের প্রতিবাদে রোববার লাঠি মিছিল করে জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলা শাখা। এর আগে দলটির অনেক নেতাকর্মীকে বেসবল ব্যাট ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ডিসি কোর্ট চত্বরে জড়ো হতে দেখা যায়।
পরে মিছিলেও অনেকের হাতে এসব ব্যাট ও লাঠিসোঁটা দেখা যায়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ছয়রাস্তা মোড়ে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন বলেন, ‘একটি দল জামায়াত-শিবিরকে দেশ থেকে বিতাড়িত করতে চেয়েছিল। তারা রান্না করা ভাতও খেয়ে যেতে পারেনি। এখন যারা নতুন করে ফ্যাসিস্ট হওয়ার চেষ্টা করছেন, তারা রান্না করারও সুযোগ পাবেন না।’
এ সময় জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হকসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। বিক্ষোভ মিছিলে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।
উল্লেখ্য, শনিবার বিকেল ছয়টার দিকে কুষ্টিয়ার ছয়রাস্তা মোড়ে গণঅধিকার পরিষদ ও জামায়াতে ইসলামীর এমপি আমির হামজার সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।
এ সময় আমির হামজার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
অপরদিকে, সন্ধ্যার পর গণঅধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে আমির হামজার সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় শনিবার রাতে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি অভিযোগ জমা দেন আমির হামজা। এ ছাড়া রোববার দুপুরে হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান আমির হামজাসহ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা।