সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
কোলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতক্ষীরার আলিমুজ্জামান সাজুর দাফন তার নিজ গ্রামের বাড়িতে সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার বরেয়া গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
জানাজায় জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় মোস্তাফিজুর রহমানসহ কয়েকশ’ মানুষ অংশ নেন।
এর আগে দুপুর ১২টার দিকে ভোমরা স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্টে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সাজুর মরদেহ বাংলাদেশি ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
বেলা তিনটার দিকে সাজুর মরদেহবাহী গাড়ি বরেয়া গ্রামে পৌঁছায়। তখন আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন, কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। তবে, বৃষ্টি থামার অপেক্ষায় থাকেননি স্বজন, প্রতিবেশী ও সাধারণ মানুষ। প্রিয় সাজুকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই শত শত মানুষ তার বাড়িতে ছুটে যান।
মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। সাজুকে শেষবারের মতো দেখতে আসা মানুষের চোখেমুখে ছিল গভীর শোকের ছায়া।
স্থানীয়রা স্মৃতিচারণ করে বলেন, সাজু ছিলেন সদালাপী, সৎ ও সহজ-সরল স্বভাবের মানুষ। তার এমন আকস্মিক মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছে না।
বৃষ্টি কিছুটা কমার পর আসরের নামাজ শেষে বাড়ির পাশের মসজিদ প্রাঙ্গণে সাজুর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাতীয় দলের ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমান, তার বাবা এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা অংশ নেন। জানাজায় স্থানীয় বিপুলসংখ্যক মানুষও উপস্থিত ছিলেন।
মোস্তাফিজুর রহমানের বাবা আবুল কাশেম গাজী জানান, সাজুর পরিবারের সঙ্গে তাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের টানেই শেষ বিদায়ে তারা উপস্থিত হয়েছেন।
জানাজা শেষে সাজুর মরদেহ দাফন করা হয়। স্বজনদের কান্না আর প্রিয়জন হারানোর বেদনার মধ্য দিয়েই শেষ হয় সাজুর শেষযাত্রা।
আলিমুজ্জামান সাজু (৫৫) সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের ইউনুস সরদারের ছেলে। তিনি পেশায় ঘের ব্যবসায়ী এবং অবিবাহিত ছিলেন।
সাজুর ভাই মাহামুদুল হাসান দীপু জানান, আলিমুজ্জামান সাজু কোমরের ব্যথার কারণে আট দিন আগে ভারতে চিকিৎসা নিতে যান। ১৯ আগস্ট রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার আবাসিক হোটেলে আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান।
অন্যদিকে, কালিগঞ্জের তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতী সরকারের মরদেহ পরিবারের অনুরোধে ভারতে সৎকার করা হয়েছে। রেবতী একই উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের ভবেশ সরকারের স্ত্রী।
শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার নিমাইতীর্থ মহাশ্মশানে তার সৎকার করা হয় বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।