খুলনা অফিস
খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আজমুল হোসেন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি হাসনাত হাবিব রিফাত আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন।
পুলিশের ভাষ্য, জবানবন্দীতে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে হামলায় জড়িত আরও ১২ থেকে ১৩ জনের নাম জানিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।
মঙ্গলবার খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-৩ আদালতের বিচারক মো. ইব্রাহিম খলিলের সামনে রিফাত এ জবানবন্দী দেন।
হরিণটানা থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রিফাতের দেওয়া তথ্য যাচাই করে অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এ মামলায় মঙ্গলবার খুলনা, বরিশাল ও পিরোজপুরে পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রতাপ সরকার (২৮), তারেক হাসান ওরফে রুবেল (৩৫) এবং রিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রতাপকে বরিশালের উজিরপুর থেকে কেএমপি ডিবি এবং রুবেলকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা হল গেট এলাকা থেকে এবং রিফাতকে পিরোজপুরের নেছারাবাদ থেকে এসআরবি-৬ ও পুলিশ যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের বিপরীতে মসজিদ গলির একটি ভবনে আজমুল হোসেনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। রাতে মেসে মিল না দিয়ে ভাত খাওয়ার অপরাধে পেটানো হয় আজমুলকে। একই সঙ্গে তার চুল কেটে দেওয়া হয়। এ সময় আজমুলের বাবার কাছে ফোনে এক লাখ টাকা চাঁদা চাওয়া হয়। মারধরের পর ভবনের চতুর্থ তলা থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে- এমন অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের ১৭ ও ১৯ ব্যাচের রবিন ও মবিন, গণিত ডিসিপ্লিনের ১৯ ব্যাচের সাগর এবং অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী ওবায়দুল।