স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
সুবর্ণভূমি—
ছবি:
মালয়েশিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক প্রবাসীকে ইন্দোনেশিয়ায় পাঠিয়ে জিম্মি ও নির্যাতনের অভিযোগে করা মানবপাচার মামলায় মোস্তাকিম মিয়া ওপেল (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি যশোর। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে নরসিংদীর মাধবদী-কান্দাইল বাসস্ট্যান্ড থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, কোতয়ালী মডেল থানায় করা মামলাটির নম্বর ৪৩। ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর মামলাটি মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৬, ৭, ৮ ও ৯ ধারায় করা হয়। গ্রেপ্তার মোস্তাকিম মিয়া ওপেল নরসিংদীর মাধবদী থানার কান্দাইল এলাকার মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী মো. জসীম উদ্দীন দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় বসবাস করছিলেন। তাকে মালয়েশিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ভালো বেতনের চাকরিতে পাঠানোর কথা বলে ৮ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়। এর মধ্যে মালয়েশিয়ায় থাকা অবস্থায় তিনি আসামিদের ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে তাকে মালয়েশিয়া থেকে অবৈধভাবে ইন্দোনেশিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে একটি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন এবং মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বজনদের কাছ থেকে দুটি ব্যাংক হিসাবে মোট ১৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সিআইডির তদন্তে ওই দুই ব্যাংক হিসাবের সূত্র ধরে ইয়াসিন (২৫) ও হুমায়ুন (৩৮) নামে আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিআইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে পলাতক আসামি মো. আতিকুর হাসানের নাম উল্লেখ করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পলাতক আতিকুর হাসান মালয়েশিয়া থেকে মানবপাচারের অর্থ ওই দুই ব্যাংক হিসাবে পাঠাতেন এবং দেশে তার ভাই মোস্তাকিম মিয়া ওপেল তা গ্রহণ করতেন। তদন্তে মোস্তাকিমের মানবপাচারের অর্থনৈতিক লেনদেনে দেশীয় এজেন্ট হিসেবে কাজ করার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে মাধবদী থানা পুলিশের সহায়তায় মাধবদী-কান্দাইল বাসস্ট্যান্ড থেকে মোস্তাকিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে যশোর সিআইডি কার্যালয়ে এনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
সিআইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোস্তাকিম ঘটনার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। তার নাম-ঠিকানা যাচাইসহ তদন্ত কার্যক্রম চলছে। জামিনে মুক্তি পেলে তিনি পলাতক হতে পারেন—এমন আশঙ্কা উল্লেখ করে আদালতে তার জামিনের বিরোধিতা করা হয়েছে।