মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চরগোয়ালগ্রামে বারবার বোমা সদৃশ বস্তু ও হুমকি সংবলিত চিরকুট উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। কখনো নদীর পাড়ে, কখনো বাড়ির দরজায়, আবার কখনো দোকানের সামনে লাল বা কালো টেপে মোড়ানো সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যাচ্ছে। এসব বস্তুর সঙ্গে মিলছে হাতে লেখা হুমকির বার্তাও।
সর্বশেষ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে চরগোয়াল গ্রামের সরদারপাড়ায় সোনালী বাংলা ক্লাবের পাশে সাদিকের বড়ার দোকানের বেঞ্চ থেকে একটি হাতবোমা সদৃশ বস্তু ও হুমকি সংবলিত চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীয়রা সকাল ১০টার দিকে লাল কসটেপে মোড়ানো বস্তু ও চিরকুট দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে বেলা ১১টার দিকে গাংনী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সেগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
চিরকুটে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে টাকা দাবি ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে ‘এটি একটি নমুনা মাত্র’—এমন কথাও লেখা রয়েছে। তবে চিরকুটে উল্লেখ করা অভিযোগ ও ব্যক্তিদের নামের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মূর্শেদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ বোমা সদৃশ বস্তু ও চিরকুট উদ্ধার করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
তবে চরগোয়ালগ্রামে এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে চলতি বছরের ৩ মে চরগোয়ালগ্রামসংলগ্ন মাথাভাঙ্গা নদীর পাড় থেকে একটি বোমা সদৃশ বস্তু ও রহস্যজনক চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশ।
২০ মে একই গ্রামের সরদারপাড়ায় আতিকুল আলম হানিফের বাড়ির সামনে থেকে লাল টেপে মোড়ানো একটি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়। ভোরে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় বাড়ির প্রধান দরজার সামনে বস্তুটি দেখতে পান বাড়ির কর্তা। খবর পেয়ে কুমারীডাঙ্গা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা সেটি উদ্ধার করেন।
একই মাসে গাংনী উপজেলার আরও কয়েকটি গ্রামেও এ ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া যায়। ৬ মে তেঁতুলবাড়িয়ায় হুমকির চিরকুটসহ একটি সন্দেহজনক বস্তু, ১৭ মে হাড়াভাঙ্গায় বোমা সদৃশ বস্তু, চিরকুট ও সাদা কাপড় এবং ১৮ মে জোড়পুকুরিয়ায় দুটি সন্দেহজনক বস্তু ও হুমকির চিরকুট উদ্ধারের খবর প্রকাশিত হয়।
এ ছাড়া চরগোয়ালগ্রামের সাহেবপাড়ায় জাহিদুল ইসলামের টিনশেড বাড়ির দরজার সামনে থেকেও লাল টেপে মোড়ানো একটি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে রাত আনুমানিক ১২টা ১৫ মিনিটে কুমারীডাঙ্গা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তুটি উদ্ধার করেন। কে বা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে সেটি সেখানে রেখেছিল, তা তখন জানা যায়নি।
একই গ্রামের বিভিন্ন স্থানে কয়েক মাসের ব্যবধানে সন্দেহজনক বিস্ফোরক সদৃশ বস্তু ও হুমকির চিরকুট উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। কারা এসব বস্তু রেখে যাচ্ছে এবং এর পেছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি ঘটনায় তদন্তের কথা বলা হলেও প্রকাশ্য সংবাদসূত্রে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তারের নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধার করেই নয়, এসব ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে তা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
গাংনী থানার ওসি মুহাদ্দিদ মূর্শেদ জানান, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলছে।