বিশেষ প্রতিনিধি
, যশোর
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিল্লি সফরে নিতে এখনও মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত। মূলত এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে চলতি মাসে গোপনে ঢাকা ঘুরে যান দেশটির নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।
এরপর মঙ্গলবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। এই সাক্ষাতের মূল বিষয়ও ছিল প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর।
বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যেভাবে ভারতবিরোধী মনোভাব বেড়েছে, তাতে প্রধানমন্ত্রী দিল্লি সফরে যাবেন কি যাবেন না, তা নিয়ে দ্বিধায় আছেন বলে মনে করছেন কোনো কোনো বিশ্লেষক। এছাড়া বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী প্রধানমন্ত্রীর ভারতে আশ্রয় গ্রহণ ও সেখানে রাজনৈতিক তৎপরতায় অংশগ্রহণের বিষয়ে সুস্পষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। শেখ হাসিনা এবং শরীফ ওসমান হাদীর খুনিদের ফেরতও চায় বাংলাদেশ।
আবার কোনো কোনো গণমাধ্যম খবর দিচ্ছে, প্রতিবেশী দেশের সাথে দীর্ঘমেয়াদে বৈরিতা কোনো পক্ষের জন্যই সুখকর হবে না বিবেচনায় তারেক রহমান শেষ পর্যন্ত ভারত সফরে যেতে পারেন এবং সেই সফরটি হতে পারে আগামী নভেম্বরে। ইতিমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে বলেও আভাস দিচ্ছে গণমাধ্যম।
কয়েকদিন আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম রেডিফের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ১৭ সেপ্টেম্বর অজিত দোভাল ঢাকা সফর করেন। রেডিফসহ ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঢাকাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জাগোনিউজ কয়েকদিন আগে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত ও বাংলাদেশ আগামী নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সময় নির্ধারণের চেষ্টা করছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। এর আগে আগস্টে একটি সম্ভাব্য সফর চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত হয়নি। নতুন করে সফরের তারিখ ঠিক করার উদ্যোগে গতি আসতে পারে দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়ামের দায়িত্ব গ্রহণের পর।
তবে সফরটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না, তার সঙ্গে বড় প্রশ্ন হয়ে আছে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে অবস্থান নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু। ঢাকার কাছে বিষয়টি এখনো গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নয়াদিল্লি-ঢাকার সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের পাশাপাশি হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে দুই দেশের অবস্থানও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
আগস্টের সফর শেষ মুহূর্তে আটকে যায়
তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নয়াদিল্লি তার ভারত সফরের জন্য আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে অভিনন্দন জানিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর তারেককে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়।
আগস্টে সেই সফরের জন্য সম্ভাব্য তারিখ নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছিল, ২১ আগস্টকে সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা, তার পরপরই পরিস্থিতি বদলে যায়। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়, এই ঘটনায় তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য প্রয়োজনীয় অনুকূল পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৫ আগস্ট ছিল শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও তার পালিয়ে যাওয়ার দুই বছর পূর্তির দিন। ওই দিন দিল্লি থেকে এক অডিও বক্তব্য দেন হাসিনা। তিনি আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান ও পরে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথাও জানান। এ ঘটনায় বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। ঢাকার পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিকে হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তখন জানায়, তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ করছিলেন। কিন্তু ৫ আগস্ট দিল্লিতে হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্যের পর সেই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। ঢাকার পক্ষ থেকে ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয় এবং হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক আসামির প্রত্যর্পণের অনুরোধ দ্রুত বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়।
ব্রিকস সম্মেলনেও যাননি তারেক রহমান
আগস্টের দ্বিপক্ষীয় সফর না হওয়ার পর সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতেও তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ করেছিল ভারত। বাংলাদেশ তখন বিমসটেকের চেয়ার হওয়ায় ভারত তাকে ব্রিকসের আউটরিচ পর্বে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তবে তারেক রহমান সেই সম্মেলনেও অংশ নেননি।
এর মধ্যেই বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ শুরু করে ভারত। দেশটির ঢাকায় নিযুক্ত হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।
দোভালের ঢাকা সফর
এই প্রেক্ষাপটেই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ঢাকা সফর নিয়ে আলোচনা সামনে আসে। রেডিফের প্রতিবেদনে বলা হয়, অজিত দোভাল ১৭ সেপ্টেম্বর প্রায় দিনের তিন-চতুর্থাংশ সময় ঢাকায় ছিলেন। তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফরের ভিত্তি তৈরির কাজের অংশ হিসেবে তিনি ঢাকা সফর করেন। প্রতিবেদনে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, দুই দেশের মধ্যে শিগগির দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হতে পারে।
রেডিফের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরে সীমান্ত ও আন্তসীমান্ত চলাচল, বাণিজ্য, পানিবণ্টন, জ্বালানি ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।
তবে দোভালের সফর নিয়ে বাংলাদেশ সরকার বা ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেয়নি। ফলে তার সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্য এখনো মূলত সংবাদমাধ্যম ও কূটনৈতিক সূত্রনির্ভর।
এর আগে, এপ্রিলে দোভালের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিলুর রহমানের বৈঠক হয়েছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটি ছিল ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের যোগাযোগগুলোর একটি। ওই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে পারস্পরিক আস্থা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার বিষয় উঠে আসে।
নতুন হাইকমিশনার, নতুন সমীকরণ
তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরের আগে দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে আসাদ আলম সিয়ামের নিয়োগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর আগে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছিল, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ অথবা নভেম্বরের শুরুতে সিয়াম দিল্লিতে দায়িত্ব নিতে পারেন।
ডেইলি সান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এখনো সফরের তারিখ নিয়ে উল্লেখযোগ্য আলোচনা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অর্থাৎ নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহের সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনা থাকলেও সেটিকে এখনই নিশ্চিত সফরসূচি বলা যাচ্ছে না।
এদিকে, বুধবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর প্রসঙ্গটি আবার সামনে এসেছে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর একটি সাক্ষাতের পর। মঙ্গলবার এই সাক্ষাৎ হয়।
নভেম্বরে তারেক রহমান ভারত যাচ্ছেন কি না এমন ‘গুঞ্জন’ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, তারা (তিনি ও ভারতীয় হাইকমিশনার) আলোচনা করেছেন এবং নিকট ভবিষ্যতে হয়তো ‘পজিটিভি আউটকাম (ইতিবাচক ফল)’ আসতে পারে।
ভারতীয় হাইকশিনারও বলেছেন সবকিছু ইতিবাচক ও যথাসময়ে এই সফর হবে। তিনি এটাও বলেছেন, দুই প্রধানমন্ত্রীর সুবিধাজনক সময়েই এটি অনুষ্ঠিত হবে।
তবে কূটনৈতিক পরিভাষায় বিষয়টিকে ‘সম্ভাব্য সফর’ বলা হলেও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান ইস্যুগুলো নিয়ে পররাষ্ট্র দফতর প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরুর ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলছেন, এই সফরে বাংলাদেশ কোনো ইস্যুগুলোকে গুরুত্ব দেবে সেগুলোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরের অনেক আগে থেকেই দেশের অবস্থান ঠিক করে প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে হবে। তার ধারণা, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখন সেই কাজটিই করছেন।
প্রতিমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনার যা বলেছেন
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে মঙ্গলবার সকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
পরে সাংবাদিকদের মি. ত্রিবেদী জানিয়েছেন, মি. কবির প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় তিনি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
পরে হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, দুই দেশের পারস্পারিক সম্পর্ক অনুকূলে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের তারিখ ও সময় নিয়ে আলোচনা হবে।
‘আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। কিছু চ্যালেঞ্জেস আছে। সেগুলো আমরা ডায়ালগের মাধ্যমে ওভারকাম করবো,’ বলেছেন তিনি।
মি. কবির জানান, ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়েও আলোচনা হয়েছে, ‘ভিজিট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিছু চ্যালেঞ্জেস আছে যেগুলো আলোচনার মাধ্যমে অ্যাড্রেস করা হচ্ছে।’
একজন সাংবাদিক ‘নভেম্বরেই’ সফরটি হতে পারে বলে গুঞ্জন চলছে- উল্লেখ করে এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গুঞ্জন মানে তো গুঞ্জনই। গুঞ্জন নিয়ে তো আমি কথা বলি না। আমি কথা বলি রিয়েলিটি নিয়ে। রিয়েলিটি হলো আজ আমাদের মধ্যে ভালো বৈঠক হয়েছে।’
‘আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। আন্তরিক পরিবেশে হয়েছে। যেসব চ্যালেঞ্জ আছে সেগুলো কথাবার্তার মাধ্যমেই সমাধান হবে,’ বলেছেন তিনি।
ওদিকে দিনেশ ত্রিবেদী সাংবাদিকদের বলেছেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সাথে যা আলোচনা হলো তা নিয়ে ভারতের দিক থেকে তারা খুশি, ‘কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে কথা হয়নি। তবে খুবই ভালো আলোচনা হলো। সবসময় একটা পজিটিভিটি আছে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইনভাইটেশন ইজ ওপেন। এ নিয়ে তাড়াহুড়োর দরকার আছে বলে মনে হয় না। সময় হলে হবে। সবকিছু ইতিবাচক। একটা সময় সবকিছু পজিটিভ হবে। আমরা আত্মবিশ্বাসী। উভয় প্রধানমন্ত্রীর সুবিধাজনক সময়ে এটা হবে।’
পরে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় দেওয়া পোস্টে বলা হয়, হাই কমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী পররাষ্ট্রবিষয়ক মাননীয় প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যাবেন- এমনটি নীতিগত ধরেই নিয়ে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বাংলাদেশ।
বিশেষ করে তিস্তার পানি, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নসহ বিদ্যমান বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশ তার অবস্থান ঠিক করতে কাজ শুরু করেছে।
এর বাইরে এই সফরকে কেন্দ্র করে বড় যেই বিষয়টি সামনে আসতে পারে তা হলো- শেখ হাসিনা ইস্যু। কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, এ নিয়ে সরকারের অবস্থান রাজনৈতিক নেতৃত্বই ঠিক করবেন।
সরকারের দিক থেকে আগেই প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির শর্ত হিসেবে ‘শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ও ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের হস্তান্তরের’ কথা বলা হয়েছিল।
সাবেক কূটনীতিক মুন্সী ফয়েজ আহমেদ বলছেন, ডোমেস্টিক অডিয়েন্সের (অভ্যন্তরীণ জনমত) কারণেই হয়তো ভারত সফর নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
‘এসব সিদ্ধান্ত দূর করে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করে সেটিই সফরে তুলে ধরতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। মনে রাখতে হবে, ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই দু’দেশের মধ্যে সক্রিয় ও সহজ সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। টানাপড়েন থাকলে দুদেশই, বিশেষ করে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সফরটি হওয়া উচিত এবং সেখানে প্রধানমন্ত্রী দেশের অবস্থানই তুলে ধরতে পারবেন,’ বলেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা ভারতীয় লোকসভার স্পিকার দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে মি. রহমানকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।