স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরে ডাকাত সন্দেহে সংঘবদ্ধ পিটুনির শিকার যুবকরা আসলে তাদের মধ্যেকার একজনের প্রেমিকাকে তুলে আনতে গিয়েছিলেন। কিন্তু লোকজনের সন্দেহ হওয়ায় কয়েকটি মসজিদ থেকে মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর লোকজন তাদের ধাওয়া করে ধরে পিটুনি দেয়। এতে আহত হন পাঁচজন; যাদের মধ্যে চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। আরেকজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন হাসপাতালে।
সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার মূল অভিযুক্ত আসাদ কৌশলে পালিয়ে গেলেও তার পাঁচ সঙ্গী স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে গণপিটুনির শিকার হন।
পুলিশ আহত অবস্থায় পাঁচজনকে হেফাজতে নিয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। তাদের মধ্যে চারজনকে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ১৫১ ধারায় আটক দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আহত অপর যুবক রাসেল হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে একটি কার ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে কয়েক যুবক বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে আসেন। তারা আশপাশে খোঁজখবর নিতে থাকলে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের।
একপর্যায়ে তাদের ডাকাত বলে সন্দেহ করে মসজিদে মাইকিং করা হয়। পরে স্থানীয়রা বালিয়াডাঙ্গা বিসিক এলাকা থেকে তাদের ধাওয়া করেন।
ধাওয়ার একপর্যায়ে যুবকেরা মান্দারতলা এলাকায় কারটি ফেলে বিভিন্ন দিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে মালোপাড়া এলাকায় স্থানীয়রা পাঁচজনকে ধরে ফেলেন। তাদের সংঘবদ্ধ পিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়।
আটক যুবকেরা হলেন ঝিকরগাছা উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের রাসেল হোসেন, নাহিদ হাসান, নীরব হোসেন, মোহাম্মদ সুজন ও তানজিম।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেন, ওই যুবকদের সঙ্গে একজন নারীও ছিলেন। তবে তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
হাসপাতালে নেওয়ার পর আহত যুবকেরা গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ঘটনাস্থলে যাওয়ার বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেন। তাদের একজন দাবি করেন, এক আদম ব্যবসায়ীর কাছে পাওনা টাকা নিতে তারা সেখানে গিয়েছিলেন।
আরেকজন বলেন, তাদের একজনের স্ত্রীকে নিতে তারা এলাকায় এসেছিলেন। অপর একজন দাবি করেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।
তবে চাঁদপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আশরাফুল আলম জানান, আহতদের সঙ্গে কথা বলে এবং বিভিন্নভাবে তদন্ত করে তারা জানতে পেরেছেন, বালিয়াডাঙ্গায় ভাড়া বাড়িতে বসবাসকারী এক নারীর সাথে ঝিকরগাছা উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আসাদের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মঙ্গলবার রাতে আসাদ কার ও মোটরসাইকেলে সঙ্গীদের নিয়ে বালিয়াডাঙ্গায় ওই নারীকে তুলে আনতে যান। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয়রা ডাকাত সন্দেহে তাদের ওপর চড়াও হন।
এ সময় আসাদ পালিয়ে গেলেও তার পাঁচ সঙ্গী স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন এবং পিটুনির শিকার হন।
এসআই আশরাফুল আলম আরও জানান, আহতদের মধ্যে রাসেলের অবস্থা গুরুতর। এ কারণে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। অপর চারজন কিছুটা সুস্থ হওয়ায় তাদের বুধবার ১৫১ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।