ইউপি ভবনে ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, ছয় মাসে আহত ৭
বাগেরহাট প্রতিনিধি
মাথায় হেলমেট, সামনে কম্পিউটার ও টেবিলে সরকারি নথিপত্র। এভাবেই প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অফিস করেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেখ মোর্শেদুর রহমান (৪০)।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কর্মরত অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও অনেকটা বাধ্য হয়েই হেলমেট পরে কাজ করতে হচ্ছে।
কারণ, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটির ছাদ ও বিমের পলেস্তরা নিয়মিত খসে পড়ছে। কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে ফাটল। গত ছয় মাসে ভবন থেকে পলেস্তরা খসে পড়ে অন্তত সাতজন সেবাগ্রহীতা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোর্শেদুর রহমান।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় অর্ধশত বছরের পুরনো ভবনটির বিভিন্ন অংশ জীর্ণ হয়ে পড়েছে। ছাদ ও বিমের পলেস্তরা উঠে গেছে।
ভবনের হলরুম, তথ্যসেবা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন কক্ষে প্রতিদিনই কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের উপস্থিতি থাকে। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ ও বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র নিতে প্রতিদিন আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৫০ বছর আগে তৎকালীন চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান ‘বুড়ো মুন্সি’ ভবনটি নির্মাণ করেন। দীর্ঘ সময়েও এর যথাযথ সংস্কার হয়নি।
পরিষদে সেবা নিতে আসা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক শেখ, বয়োবৃদ্ধ ধীরেন্দ্রনাথ ঢালী ও মেরাজুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ভবনটির এমন বেহাল দশা। ছাদ ও পলেস্তারা খসে পড়ায় সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে।
বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের আয়া সবিতা রানী রায় জানান, গত ৪ অক্টোবর পরিষদ ভবনের একটি কক্ষে কাজ করার সময় ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে তিনি আহত হন।
গ্রাম পুলিশ নুর নবী ও মিঠুন ঘরামী বলেন, প্রায় প্রতিদিনই ভবনের কোনো না কোনো অংশ ভেঙে পড়ে এবং পরে সেগুলো সরিয়ে পরিষ্কার করতে হয়।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোর্শেদুর রহমান বলেন, ‘প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সেবা নিতে আসেন। অনেকের মাথার ওপর ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। গত ছয় মাসে এখানে কমপক্ষে সাতজন সেবাগ্রহীতা আহত হয়েছেন। বর্তমানে হেলমেট মাথায় দিয়ে কাজ করছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।’
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় থাকায় এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারেননি।
এদিকে সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তথ্য সংগ্রহের জন্য পরিষদে গেলে চেয়ারম্যান ও কোনো সদস্যকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়ার অপেক্ষায় না থেকে দ্রুত ভবনটি সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।