রূপক মুখার্জি
, লোহাগড়া নড়াইল
শুষ্ক মৌসুম শুরুর আগেই নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়ন এবং লোহাগড়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে মধুমতী নদীর ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদী পাড়ের শত শত মানুষ।
গত দুই সপ্তাহে লোহাগড়া ও কোটাকোল ইউনিয়নে মধুমতী নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। দুটি ইউনিয়নের মধুমতী নদী পাড়ের প্রায় ১০০-১৫০টি পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ সময়ের মধ্যে প্রায় ৩৫০ একর ফসলি জমি, দুই কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মধুমতী নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া ভাঙনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে আরো প্রায় ৫৫০টি পরিবার।
স্থানীয়দের দাবি, 'এক সময় এসব এলাকায় প্রায় নয় শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি ছিল। মধুমতী ভয়াবহ ভাঙনে এসব পরিবারের অনেকের ঘরবাড়ি, বাপ দাদার কবর ও ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নিঃস্ব হয়ে অনেক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, 'নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনের তীব্রতা এ বছর আরও বেড়েছে। বালু উত্তোলনের কারণে মধুমতী নদীর ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় এলাকার মানুষ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ স্থানীয় প্রশাসনকে দুষছে। তারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, নদী ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, মধুমতী নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে লোহাগড়া ইউনিয়নের ছাগলছিড়া গ্রামের মিন্টু মোল্যা, ইসলাম ফকির, আলিম মোল্যা, আহাদ মোল্যা, নজরুল শেখ, আমিনুর আলী, হাই মোল্যা,রসুল মোল্যা এবং কোটাকোল ইউনিয়নে রায়পাশা গ্রামের মির্জা খাঁ, রেজন খাঁ, রহিমন বেগম, খলিল কাজী, শাহিন শিকদার, জাফর খাঁ ও মান্নান মোল্যাসহ আরও অনেক পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
লোহাগড়া ইউনিয়নের ছাগলছিড়া গ্রামের মিন্টু মোল্যা বলেন, 'রাতের বেলার ভাঙনে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়। তখন কিছুই দেখা যায় না। কোথায় যাবো কি করবো কিছুই বুঝে উঠতে পারি না। আমরা গরিব মানুষ। টাকা পয়সাও নেই যে, অন্য জায়গায় সরে গিয়ে ঘর তুলবো। নদী ভাঙন রোধে কেউ আমাদের খোঁজ খবর রাখে না।’
কোটাকোল ইউনিয়নের রায়পাশা গ্রামের রহিমন বেগম বলেন, 'আমাদের কয়েক বিঘে মাঠাম জমি মধুমতি নদী গর্ভে চলে গেছে। আগে দুইবার বাড়ি ভাঙ্গিছে। কষ্ট করে নতুন বাড়ি করেছি। নতুন বাড়িও ভাঙার মুখি পড়েছি। নদী ভাঙনে এলাকার মানুষরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।’
তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
লোহাগড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ইজারাকৃত বালুমহাল বন্দোবস্তের বাইরে কোন ইজারাদার বালু উত্তোলন করলে তার ইজারা বাতিল করা হবে। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, ‘নিয়ম না মেনে বালু উত্তোলন করার কারণে নদী পাড়ের লোকজনের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তবে প্রকল্পের বাইরে আমরা কাজ করতে পারি না। তিনি আরো বলেন,নিয়ম বহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলন করার কারণেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।’