মাগুরা প্রতিনিধি
মাগুরায় সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা ও বির্তকের পাশাপাশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে শালিখা উপজেলা সদর আড়পাড়ায় সার ডিলার নিয়োগ বিষয়ে কৃষকদলের নেতা আলামিন মোল্লা ওরফে সোহাগ ফেসবুকে পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে রানা, আলিম ও রসুল নামে তিনজন আহত হন। পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে বলে শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশিকুর রহমান দাবি করেন।
মাগুরা জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ জানান, নীতিমালা অনুযায়ী ৫৯৬ জন আবেদনকারীর মধ্যে থেকে যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিটি ইউনিয়ন এবং পৌরসভার জন্য তিনজনের নাম সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেখান থেকে পৌরসভা এবং ৩৬ ইউনিয়নের জন্য ৩৭ জন নতুন সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়।
পৌরসভার জন্য জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুকুজ্জামান ফারুক অভিযোগ করেন, তিনি তার বড় ভাবির নামে আবেদন করলেও দল তা মূল্যায়ন করেনি। দলের নীতিনির্ধারকরা কীসের বিনিময়ে সার ডিলারদের যোগ্যতা নির্ধারণ করেছেন—সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অন্যদিকে স্যোশাল মিডিয়ায় মাগুরা পৌর যুবদলের সভাপতি একাধিকবার কারা নির্যাতিত মিজানুর রহমান মিজান পোস্ট করে বলেছেন, সার ডিলার নিয়োগে টাকার কাছে দল হেরেছে। মহম্মদপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শরিফুজ্জামান টুকু একইভাবে ফেসবুকে বালিদিয়া ইউনিয়নে সদ্য নিযোগ পাওয়া ডিলার সম্পর্কে অভিযোগ তুলেছেন।
শালিখা উপজেলার ধনেশ্বরগাতী ইউনিয়নের তালখড়ি গ্রামের আবু দাউদ ওরফে পান্নু নামে এক ব্যক্তিকে ‘মেসার্স লস্কর এন্টারপ্রাইজ’-এর নামে ওই ইউনিয়নের সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে তার আওয়ামী সম্পৃক্ততা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
আবু দাউদ পান্নু দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে তাকে আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট বীরেন শিকদার এবং ধনেশ্বরগাতী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিমল শিকদারের সঙ্গে দেখা যায়। এসব ছবি ঘিরেই তার সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আবু দাউদ পান্নু বলেন, ‘আমি বিএনপি পরিবারের সন্তান। আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে অনেকের ছবি আছে।’
শালিখা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান চকলেট মুন্সী বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে কখনোই তাকে আমাদের দলীয় কর্মসূচি বা কোনো কর্মকাণ্ডে দেখিনি। কীভাবে তিনি সার ডিলারশিপ পেলেন, সেটিও আমার জানা নেই। তবে তার কাকা ইঞ্জিন লস্কর দীর্ঘদিন ধরে ধনেশ্বরগাতী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।’
শালিখা উপজেলার নির্বাহী অফিসার তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরেছি। এটা প্রাথমিক তালিকা। যদি বির্তকিত কেউ তালিকায় স্থান পেয়ে থাকে তাহলে যাচাই-বাছাই করে তাকে বাদ দেওয়া হবে।’
মাগুরা-১ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মনোয়ার হোসেন খান জানান, সার ডিলার নিয়োগে জেলা প্রশাসক ও কৃষি অফিসাররা যাচাই বাছাই করে তালিকা করেছেন। এর সাথে দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আলী আহম্মেদ জানান, সার ডিলার নিয়োগে এমপির প্রতিনিধিরা কৃষি অফিসারদের সাথে থেকে যাচাই বাছাই করে তালিকা দিয়েছেন, তার সাথে কোনো যোগাযোগ করেননি। প্রকাশিত তালিকায় আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের লোক থাকায় বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিএনপির ১৭ বছরের নির্যাতিতরা ডিলারশিপ না পাওয়ায় দলের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।