সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের মাধ্যমে সিরিয়ার সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলায় দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানাকে (SANA) দেওয়া এক বিবৃতিতে আদালতের প্রধান বিচারক ফখর আল-দিন আল-আরিয়ান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব থেকে মাঠপর্যায়ের অপরাধীদের কাছে পাঠানো সরাসরি নির্দেশ এবং সামরিক ও প্রশাসনিক কমান্ড কাঠামোর মধ্য দিয়ে আসাদের দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠার মতো প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এ রায় দিয়েছেন। মাঠপর্যায়ের অপরাধীদের কাছে সরাসরি নির্দেশ পাঠানোর সঙ্গে আসাদের সম্পৃক্ততার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও আদালত পর্যালোচনা করেছে।
বিচারক আল-আরিয়ান স্পষ্ট করে বলেন, কেবল প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের কারণে আসাদকে এ সাজা দেওয়া হয়নি, বরং অপরাধের সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে।
এর আগে গত ১১ আগস্ট চতুর্থ ফৌজদারি আদালত বাশার আল-আসাদ, তার ভাই মাহের আল-আসাদ এবং পলাতক আরও সাত কর্মকর্তাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। একই মামলায় দারা প্রদেশের সাবেক রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান আতেফ নাজিবকে আদালতে উপস্থিত থাকা অবস্থায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে সিরিয়ার দারা প্রদেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের সময় সংঘটিত অপরাধের দায়ে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে হত্যা, নির্যাতন, বেআইনিভাবে আটকে রাখা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ।
আদালতের ৩৯৬ পৃষ্ঠার একটি বিচারিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এই রায় দেওয়া হয়। রায়ে অপরাধের বিস্তারিত বিবরণ, বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ এবং সিরিয়ার বিপ্লবের শুরুর দিকে দারায় ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি নিয়ে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের জবানবন্দি তুলে ধরা হয়েছে।