যশোর, বাংলাদেশ || রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

'ভাইরাস' চুরির লক্ষে গাছের ডাল কর্তন!

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ : শনিবার, ২৪ অক্টোবর,২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম
আপডেট : রবিবার, ২৫ অক্টোবর,২০২৬, ০২:১৪ এ এম
'ভাইরাস' চুরির লক্ষে গাছের ডাল কর্তন!

যশোরের কেশবপুর বাগদাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছয়টি রেইনট্রি থেকে ‘ভাইরাস’ চুরি করে বিক্রির ঘটনায় থানা ও উপজেলা প্রশাসন বরাবর কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় জনতা সেগুলো উদ্ধার করে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

অভিযোগে জানা যায়, কেশবপুর উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নে বাগদাহ মজিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে থাকা, ছয়টি বড় রেইনট্রির ডালে থাকা 'ভাইরাস' সংগ্রহ করতে বাগদহ গ্রামের  মনিরুল ইসলাম (৪৫), মতিয়ার রহমান মুন্না (৪৬) ও একই গ্রামের বাসিন্দা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুল হাকিম (৪৪) শুক্রবার সকালে ওই গাছের ডাল  গোপনে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। পরে তারা ওই ছয়টি গাছের ডাল কেটে নেন।

স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে এবং তারা ডাল রেখে যেতে বাধ্য হয়। এই ঘটনায় বাগদহ গ্রামের বাসিন্দা এনসিপি নেতা শিশির শনিবার কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানার ওসি ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর পৃথক তিনটি অভিযোগ করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

এনসিপি নেতা শিশির বলেন, মজিদপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল হাকিম চুরি করে স্কুলের গাছগুলো থেকে ডাল বিক্রি করে দিয়েছেন। বড় ডাল কেটে নেওয়ার কারণে গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 

কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান বলেন, স্কুলের গাছ থেকে 'ভাইরাস' চুরির ঘটনায় অভিযোগ পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গাছে সংক্রমিত লাক্ষা নামের এক পরজীবী পোকার নির্যাস বা রসকে স্থানীয়ভাবে 'ভাইরাস' বলা হয়।

যশোর সরকারি এমএম কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. জিল্লুল বারী বলেন, ‘Laccifer Lacca’ নামে এক প্রকার পোকা রয়েছে। এগুলো প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায়। আবার বাণিজ্যিকভাবে চাষও হয়। বিভিন্ন উদ্ভিদের ওপর (যেমন-বরই, পলাশ, কুসুম, রেইনট্রি প্রভৃতি) লাক্ষা পোকা পরজীবী হিসাবে আশ্রয় নিয়ে ওই উদ্ভিদের রস খেয়ে বেঁচে থাকে। নারী লাক্ষা পোকার দেহ থেকে নিঃসৃত আঠালো পদার্থ খাদ্য তৈরি, চিকিৎসা ও শিল্পের কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এই রেজিনের বর্ণ সাধারণত লালচে কিংবা কালচে খয়েরি হয়ে থাকে। ক্ষত থেকে রক্তপাত বন্ধ, ত্বকের আলসার ও ত্বকের বিভিন্ন রোগ নিরাময়, ছত্রাক আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ইউনানি পদ্ধতিতে ওষুধ তৈরিতেও এই ‘ভাইরাস’ ব্যবহার হয়ে থাকে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)