স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
উদীচী একটি চেতনার নাম, আদর্শের নাম। অসাম্প্রদায়িক, শোষণমুক্ত ও সাম্যবাদী সমাজ গঠনের হাতিয়ারের নাম। সাংস্কৃতিক বিকাশের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের সোপানের নাম। একদল যুবকদের আত্মপ্রত্যয়ের নাম।
উদীচীর ৫৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে যশোর টাউন হল ময়দানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। উদীচী যশোরের সভাপতি অ্যাড. আমিনুর রহমান হিরুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান খান বিপ্লব।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, উদীচীর উপদেষ্টা খন্দকার আজিজুল হক মনি, অ্যাড. রবিউল আলম, যশোর ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক এজেডএম সালেক, সাংস্কৃতিক সংগঠক সানোয়ার আলম খান দুলু, রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ যশোরের সভাপতি শ্রাবণী সুর. যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাহমুদ হাসান বুলু, উদীচী যশোরের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাজী খালেদ।
যশোরে ডা. কাজী রবিউল হকের ভাঙাচোরা বাসায় ১৯৬৯ সালের ৪ এপ্রিল উদীচী গঠনে যুবকেরা বৈঠক করেন। সেখানে গানের দলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উদীচীর কার্যক্রম করার সিদ্ধান্ত হয়। যশোর পৌরপার্কের মধ্যে উদীচীর সব গানের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে তার কার্যক্রম বিস্তৃত হয়। উদীচীর এখন তিন শতাধিক শাখার মধ্যে যশোরে প্রথম জেলা কমিটি। বক্তারা এই ইতিহাস স্মরণ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, সংগ্রামমুখর সময়ে উদীচীর জন্ম, সংগ্রামের মধ্যেই উদীচীর বেড়ে ওঠা। আর তাই উদীচী নিজেই এখন সংগ্রামের অগ্নিশিখা। বিভেদের সকল কুমন্ত্রণা ছিন্ন করে সাম্য ও সৃষ্টিশীলতায় জীবন ও জগৎকে জাগিয়ে তোলাই উদীচীর কাজ।
যশোর জেলা সংসদের দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার মধ্যে সকালে উদীচী যশোর প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীতের মধ্যদিয়ে জাতীয় ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন সভাপতি আমিনুর রহমান হিরু ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান খান বিপ্লব।
এরপর যশোর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এসময় উদীচীর শপথ পাঠ করান সংগঠনের সভাপতি।
বিকেলে আলোচনা সভার আগে জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। আর আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।