যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা পুত্রবধূর ওপর ফরজ নয়

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল,২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা পুত্রবধূর ওপর ফরজ নয়

স্বামী–স্ত্রীর সম্পর্ক এবং শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক সুন্দরভাবে চলতে পারে তখনই, যখন সেখানে ভালো চরিত্র, সুন্দর ব্যবহার, সহানুভূতি ও ত্যাগের মনোভাব থাকে। 

শরীয়তে স্বামী–স্ত্রীর অধিকারসমূহে সুস্পষ্ট ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে এবং হুসনে মু‘আশারাত (উত্তম দাম্পত্য আচরণ)-এর নির্দেশ দিয়ে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, এই সম্পর্ক কেবল আইনগত দায়িত্বের নয়; বরং নৈতিকতা, সহানুভূতি ও পারস্পরিক ত্যাগের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে।

শরীয়ত কিছু বিষয় স্ত্রীর ওপর ফরজ করেনি, আবার কিছু বিষয় স্বামীর ওপরও ফরজ করেনি। তবে দাম্পত্য জীবনের সৌন্দর্য ও স্থায়িত্বের স্বার্থে নৈতিক ও দ্বীনী দৃষ্টিকোণ থেকে বহু বিষয় উভয়ের জন্যই পারস্পরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পরিণত হয়।

এই প্রেক্ষাপটে বলা যায়—পুত্রবধূর জন্য শাশুড়ি ও শ্বশুরের খেদমত করা শরঈভাবে ফরজ নয়, এবং তা না করলে সে গুনাহগারও হয় না। কিন্তু নৈতিকতার বিচারে তার মনে রাখা উচিত, শাশুড়ি ও শ্বশুর মূলত তার স্বামীর পিতা–মাতা। 

অতএব, যেভাবে সে নিজের বাবা–মায়ের স্বাচ্ছন্দ্য ও কল্যাণের প্রতি যত্নশীল থাকে, সেভাবেই স্বামীর বাবা–মার আরাম ও খেদমতের বিষয়টি তার নৈতিক দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।

তবে একই সঙ্গে এটিও লক্ষণীয় যে, স্বামীর জন্য স্ত্রীকে জোরপূর্বক বাবা–মার খেদমতে বাধ্য করা কিংবা এ বিষয়ে চাপ ও জবরদস্তি করা শরীয়তসম্মত নয়। 

বাস্তবে নিজের বাবা–মার খেদমত করা ও তাদের ভরণ–পোষণের দায়িত্ব মূলত স্বামীরই ওপর বর্তায়। সুতরাং এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের জন্য মধ্যমপন্থা অবলম্বন করাই শরিয়তের নির্দেশ। 

স্বামী ভালোবাসা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে স্ত্রীকে উৎসাহিত করতে পারে, কিন্তু জোর করতে পারে না। অপরদিকে, পুত্রবধূরও উচিত নয় এই বলে খেদমত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া যে—‘এটি আমার দায়িত্ব নয়।’ 

কেননা স্বামীও দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীর জন্য এমন বহু কাজ করে থাকে, যা তার ওপর ফরজ নয়। পারস্পরিক দায়িত্ববোধকে যদি কেবল ‘ফরজ–না ফরজ’ এই মানদণ্ডে সীমাবদ্ধ করা হয়, তবে সুখী দাম্পত্য জীবন সম্ভব হয় না।

একইভাবে শাশুড়ি ও শ্বশুরের কর্তব্য হলো পুত্রবধূকে কন্যার মর্যাদা দেওয়া, তাকে সম্মান করা, অবমাননা না করা এবং তার সুখ–দুঃখে শরিক হওয়া। আর পুত্রবধূর জন্য শাশুড়ি ও শ্বশুরকে বাবা–মার ন্যায় সম্মান করা এবং তাদের খেদমতকে নিজের সৌভাগ্য মনে করাই উত্তম।

এভাবেই সংসারে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং স্বামী–স্ত্রীর দাম্পত্য সম্পর্ক হয় দৃঢ় ও স্থায়ী। 

হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) নারীদের উদ্দেশ্যে এক মূল্যবান নসিহতে বলেন—শ্বশুর–শাশুড়ি জীবিত থাকাকালীন তাদের খেদমত ও আনুগত্যকে নিজের সম্মান ও সৌভাগ্যের অংশ মনে করা উচিত। কারণ তাদের হৃদয় জয় করাই দাম্পত্য জীবনের প্রশান্তির অন্যতম চাবিকাঠি।

এ প্রসঙ্গে এক ফতোয়ায় হাটহাজারী মাদ্রাসার সাবেক প্রধান মুফতি মুহাম্মদ আব্দুস সালাম চাটগামী সাহেব উল্লেখ করেন—স্ত্রী যদি অবসরপ্রাপ্ত থাকে, তবে মানবিক সহানুভূতি ও দাম্পত্য সম্পর্কের দাবি হিসেবে শাশুড়ি ও শ্বশুরের বৈধ খেদমত করা তার জন্য কর্তব্যের পর্যায়ে পড়ে। তবে সে অবসরপ্রাপ্ত না হলে বা এমন কোনো খেদমত হলে যা তার জন্য শরিয়তসম্মত নয়, সে ক্ষেত্রে তা পুত্রবধূর ওপর আবশ্যক নয়।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন