ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে আরেকটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে দুই দিনের ব্যবধানে দুটি মরদেহ উদ্ধার হলো একই নদী থেকে।
পুলিশ ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর পলিয়ানপুর সীমান্তের শূন্য রেখা থেকে প্রায় দশ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ইছামতী নদীতে রথীকান্ত জয়ধর (৪৬) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে একই সীমান্তের প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে একই নদী থেকে আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
রথীকান্ত জয়ধর গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া উপজেলার দেবেন্দ্রনাথ জয়ধরের ছেলে। তবে অপর মরদেহটির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ ও বিজিবি।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতী নদীতে দুর্গন্ধ পেয়ে এলাকাবাসী খোঁজ নিতে যান। তারা কচুরিপানার ফাঁকে ভাসমান অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে তারা পুলিশ ও বিজিবিকে খবর দেন।
মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম জানান, আজ যে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে, সেই স্থান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে গত ১৩ এপ্রিল আরেকটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই মরদেহটির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। আজ উদ্ধার করা মরদেহটি কয়েকদিন আগের বলে ধারণা করা হচ্ছে। পানির নিচে থাকার কারণে মরদেহটি পচে ফুলে গেছে এবং উপুড় অবস্থায় ভাসছিল।
তিনি আরও জানান, ১৩ এপ্রিল উদ্ধারকৃত মরদেহের বিষয়ে বিজিবি ইতোমধ্যে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে সেখান থেকেও মৃত ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
কোটচাঁদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সায়েম ইউসুফ বলেন, আজ উদ্ধার করা মরদেহের শার্টের পকেটে একটি পাসপোর্ট পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে পাসপোর্টে কোনো ভিসা বা গেটওয়ে পাসের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, ১৩ এপ্রিল উদ্ধার করা অজ্ঞাত মরদেহটির পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। এ বিষয়ে পরিচয় শনাক্তের লক্ষ্যে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।