স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোর শহরে লাগামহীন হয়ে পড়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক। চলাচলের রাস্তার তুলনায় এর মাত্রাতিরিক্ত সংখ্যার ফলে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের কবলে পড়ছেন নগরবাসী। দুর্ঘটনা আর জনদুর্ভোগ এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল, চালকদের অদক্ষতা এবং বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেও চার্জিংয়ের আধিক্য শহরবাসীকে এক চরম বিশৃঙ্খলার মুখে ঠেলে দিয়েছে। এছাড়া বেপরোয়া গতিতে এসব যান চলাফেরা করায় বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা।
মঙ্গলবার সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন সিনিয়র সাংবাদিক ও প্রেসক্লাব যশোরের যুগ্ম সম্পাদক কাজী আশরাফুল আজাদ। সকালে মেয়েকে ইনস্টিটিউট স্কুলে দিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য শহরের এমএসটিপি স্কুলে যাচ্ছিলেন। এসময় একটি দ্রুতগামী অটোরিকশা তাকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। কাজী আশরাফুল আজাদ সুবর্ণভূমির সিনিয়র রিপোর্টার এবং শহরের বেজপাড়া এলাকার কিউ. এইচ হায়দারের ছেলে।
দুর্ঘটনার পর তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে বিশ্রামে পাঠানো হয়েছে।
কাজী আশরাফুল আজাদের মতো এমন দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
যশোর পৌরসভার তথ্যমতে, শহরে অনুমোদিত ইজিবাইকের সংখ্যা দুই হাজার ৯৭৫টি এবং প্যাডেল রিকশা দেড় হাজার। অথচ, বাস্তবে ২০ হাজারের বেশি অবৈধ ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে। বিশেষ করে শহরের দড়াটানা, চিত্রামোড়, হাসপাতাল মোড় এবং মণিহার এলাকায় এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগেই থাকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যশোর শহর ও শহরতলী ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলাগুলো থেকেও সকালে লোকজন তাদের রিকশা ও ইজিবাইক নিয়ে প্রবেশ করে। অধিকাংশই শহরের রাস্তাঘাট চেন না। তাছাড়া, কোনো প্রকার প্রশিক্ষণ ছাড়াই কিশোর ও অদক্ষ চালকরা দ্রুতগতির এই বাহনগুলো চালায়। সেকারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। ট্রাফিক সিগনাল ও আইন অমান্য করে যেখানে সেখানে যাত্রী ওঠানো- নামানোর কারণে সাধারণ পথচারী ও যাত্রীদের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে।
যশোর পৌর কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ আট বছর ধরে নতুন লাইসেন্স দিচ্ছে না বলে দাবি করলেও শহরে অবৈধ যানের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পারছে না জেলা প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগ। মাঝেমধ্যে লোকদেখানো অভিযান পরিচালনা করলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে ব্যর্থ হচ্ছে।
প্রশাসনের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় এসব অবৈধ যানবাহন পরিচালিত হওয়ায় কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না তারা।
অন্যদিকে, এই হাজার হাজার ইজিবাইক ও অটোরিকশা চার্জ দিতে গিয়ে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। যা স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি সৃষ্টি করছে। লাইসেন্সধারীদের তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের অনীহা এবং ট্রাফিক বিভাগের দায়সারা ভূমিকা যশোরবাসীকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
যশোর শহরের বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম, সুব্রত, আশিকসহ একাধিক শহরবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধ যানবাহন চিহ্নিত করে তা নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক চাপমুক্ত হয়ে প্রশাসনকে শক্ত ভূমিকা পালনের জন্য সহযোগিতা করতে হবে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার হাবিবা সুলতানা ফোয়ারা জানান, ইজিবাইক, অটোরিকশায় শহরে প্রতিনিয়ত ছোট বড় দুঘটনায় মানুষ আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে যশোর ট্রাফিক পুলিশ ইন্সপেক্টর মো. ইউসুফ আলী বলেন, শহরে যানজট নিরসনে আমরা মঙ্গলবার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি নিয়ে একটি সভা করেছি। শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের বিষয়টি সেখানে আলোচিত হয়েছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ নাগাদ আমরা ফের সভা করে একটি কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবো বলে আশা করছি।