যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ব্যবসায়ীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা, অভিযুক্তরা লাপাত্তা

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল,২০২৬, ০৯:৩০ পিএম
ব্যবসায়ীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা, অভিযুক্তরা লাপাত্তা

লোহাগড়া উপজেলায় একজন গার্মেন্ট ব্যবসায়ীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে, পুলিশ অভিযুক্ত কাউকে আটক করতে পারেনি। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল সদরের আউড়িয়া ইউনিয়নের বুড়িখালি গ্রামের হান্নান খানের ছেলে জাহিদ খান (৩৬)। লোহাগড়া বাজারে ‘খান গার্মেন্টস’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার। লোহাগড়া পৌরসভার মশাঘুনি গ্রামের ইয়াসিন ঠাকুরের মেয়ে রুমা খাতুনের (২৭) সাথে জাহিদের পরিচয় যা পরবর্তিতে প্রেমজ সম্পর্কে রূপ নেয়।

রুমা কৌশলে জাহিদকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পর (ফেব্রুয়ারি মাসে) রুমার মা ফাতেমা বেগম ও খালা পরী বেগম পরস্পর যোগসাজসে ২৫ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে দেন।

বিয়ে করার পর শ্বশুরবাড়ি থেকেই জাহিদ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। এই সময়কালে অভিযুক্তরা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় এক কোটি টাকা নানা কৌশলে হাতিয়ে নেয়।

জাহিদ তাদের মতলব বুঝতে পেরে হাতিয়ে নেওয়া টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করলে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা জাহিদকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন এবং আত্মহত্যা করতে প্ররোচিত করে।

অভিযুক্তরা জাহিদকে প্রকাশ্যে হুমকি দেয়, জমিজমা বিক্রি করে বিয়ের দেনমোহর বাবদ ২৫ লাখ টাকা দিতে হবে। না দিতে পারলে যেনো বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে।

গত ২০ এপ্রিল জাহিদ শ্বশুরবাড়িতে অবস্থানকালে তার দেওয়া এক কোটি টাকা ফেরত চাইলে তারা গালিগালাজ, ঘরের ভেতর আটকে শারীরিক নির্যাতন করে।

তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ওই দিন রাত ৯টার দিকে জাহিদ বিষপান করেন। মুমূর্ষু অবস্থায় ওই গ্রামের আরিফুল মল্লিক, রাজা শিকদারসহ স্থানীয়রা জাহিদকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন।

পরবর্তীতে জাহিদকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় জাহিদের স্ত্রী ফরিদা বেগম বাদী হয়ে উল্লিখিত তিনজনকে আসামি করে ২৩ এপ্রিল সকালে লোহাগড়া থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা করেন।

ফরিদা বেগম সাংবাদিকদের বলেছেন, আসামিরা আমার স্বামীকে ব্লাকমেইল করে বিয়ে করতে বাধ্য করে এবং তার প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। টাকা ফেরত চাইলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করে। স্বামী হত্যার বিচার চাই।

এদিকে, ব্যবসায়ী জাহিদের আত্মহত্যার ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা গা ঢাকা দেওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

লোহাগড়া থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, এ সংক্রান্ত একটি এজাহার পেয়েছি। তদন্ত করে দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে।

 

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)