সুবর্ণভূমি ডেস্ক
ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা বা বন্দর থেকে ছেড়ে আসা জাহাজগুলোর ওপর অবরোধ অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ১৩ এপ্রিল হরমুজ প্রণালির পানিসীমায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর টহল শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৩৪টি জাহাজের পথ পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছিলেন, ইরান সংশ্লিষ্ট অথবা ইরানের দিকে যাওয়া-আসা করছে এমন সব জাহাজকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মূলত ইরানের সমুদ্রবাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবেই মার্কিন বাহিনী এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের এলাকায় তাদের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ইরানের ওপর বৈশ্বিক চাপ বৃদ্ধির কৌশলের অংশ হিসেবে এই নৌ-অবরোধ বা ব্লকেড কার্যকর করা হচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে বিকল্প পথ বেছে নিতে হচ্ছে, যা ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
চিকিৎসা সরঞ্জামবাহী জাহাজ জব্দের নিন্দা ইরানের
যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ‘তুসকা’ জব্দের ঘটনাকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী মিশন। গত ১৯ এপ্রিল হরমুজ প্রণালি এলাকায় মার্কিন নৌ-অবরোধ চলাকালে জাহাজটি জব্দ করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানি মিশন জানায়, জব্দকৃত জাহাজটি ‘গুরুত্বপূর্ণ ডায়ালাইসিস সরঞ্জাম ও চিকিৎসা সামগ্রী’ বহন করছিল। এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দাবি করেছে তেহরান।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘এই জবরদস্তিমূলক ও বেআইনি কাজ মানুষের জীবনকে বিপন্ন করছে, নৌ-চলাচলের স্বাধীনতাকে খর্ব করছে এবং অসহায় রোগীদের মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।’ এই ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছে ইরান।
উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল থেকে হরমুজ প্রণালির পানিসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) টহল শুরু করার পর থেকে ইরান সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ওপর কড়া নজরদারি ও অবরোধ জোরদার করা হয়েছে। চিকিৎসা সরঞ্জামবাহী জাহাজ জব্দের এই নতুন অভিযোগ দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনাকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা