যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

মণিরামপুরের সাবেক ওসি ও ছয় ‘সাংবাদিকের’ বিরুদ্ধে মামলা

মেয়েকে জিম্মি করে রাখার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার

, যশোর

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল,২০২৬, ০৬:০২ পিএম
মণিরামপুরের সাবেক ওসি ও ছয় ‘সাংবাদিকের’ বিরুদ্ধে মামলা

মণিরামপুর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রজিউল্লাহ খান ও ছয় ‘সাংবাদিকের’ বিরুদ্ধে যশোরের আদালতে মামলা হয়েছে।

প্রতারণামূলক অপহরণ ও থানায় বেআইনি আটকের অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার আদালতে এ মামলা করেন ভুক্তভোগী নারীর মা লালমনিরহাটের বাসিন্দা সেলিনা খাতুন।

সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা শারমীন অভিযোগ তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী আব্দুর রহমান সোহাগ।

আসামিরা হলেন, মণিরামপুর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রজিউল্লাহ খান, মণিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়ার আব্দুল মান্নানের ছেলে জাকির হোসেন, তাহেরপুর গ্রামের দেবাশীষ চক্রবর্তীর ছেলে সুমন চক্রবর্তী, বিপ্রকোনা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে নুর ইসলাম নাহিদ, হাকোবা গ্রামের পীর আলীর ছেলে তহিদুল ইসলাম, সিটি কলেজপাড়ার আকবারের ছেলে আসিফ আকবার সেতু ও বিজয়রামপুরের আবু মুসার ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, সেলিনা খাতুনের নাবালিকা মেয়ে সামিয়া আফরুজ মানসিক বিকারগ্রস্ত। পারিবারিক গোলযোগের কারণে সে তার দুলাভাই ডাক্তার রাফসানজানি এবং বড় বোনকে জব্দ করতে মোবাইলফোনে কিছু মিথ্যা তথ্য ছড়ায়। এ ঘটনাকে পুঁজি করে যশোর ও মণিরামপুরের কথিত কিছু সাংবাদিক তার মেয়ের সাথে যোগাযোগ করে তাকে নানাভাবে ফুঁসলায়। সেতু ও নাহিদ ডাক্তার রাফসানজানির বিরুদ্ধে মিথ্যা অডিও রেকর্ড ও মেসেজ দিয়ে তার মেয়েকে প্ররোচণার মাধ্যমে ১৬ মার্চ সকালে মণিরামপুরে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়।

এরপর জাকির হোসেন তার মেয়েকে ৪ ঘণ্টা থানার পাশে তহিদুলের বাড়িতে রেখে দেয়। দুপুরে জাকির হোসেন, সুমন চক্রবর্তী এবং আব্দুল্লাহ আল মামুন থানার স্টাফ রুমে তাকে বসিয়ে রাখে। তার মেয়ে থানা থেকে চলে যেতে চাইলে ওসি তার নিরাপত্তার কথা বলে সাংবাদিকদের যোগসাজসে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে থানায় দুইরাত বেআইনিভাবে রেখে দেন।

১৭ মার্চ দুপুরে তহিদুল ইসলাম ও জাকির হোসেন তার (বাদী) জামাইয়ের নামে মিথ্যা তথ্য বর্ণনায় মামলা লিখে তার মেয়ের কাছ থেকে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। ইতিমধ্যে তার স্বামী সাজেদুর রহমান বিকারগ্রস্ত মেয়ে নিখোঁজ হয়েছে মর্মে ১৬ মার্চ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানায় একটি জিডি করেন।

১৭ মার্চ সন্ধ্যায় তরুণীর মা, বাবা মেয়েকে খুঁজতে মণিরামপুর থানায় গেলে সামিয়া আফরুজ নেই বলে জানানো হয়। তার মেয়েকে থানায় ৪৯ ঘণ্টা বেআইনি আটক রেখে সন্ধ্যা থেকে রাত একটা পর্যন্ত বাদীর জামাই ডাক্তার রাফসানজানির কাছ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে দেড় লাখ টাকা দাবি করে।

একের পর এক মিথ্যা তথ্য, মুক্তিপণ ও নিখোঁজ মেয়ের ব্যাপারে দিশেহারা হয়ে তিনি, মেয়ের বাবা, বোন ও বোনজামাই ১৮ মার্চ দুপুর ১২ টায় প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলন হওয়ার পর বিকেলে বাদীর নাবালিকা মেয়েকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।

এরপর তিনি তার মেয়ের কাছ থেকে জানতে পারেন, আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে ডাক্তার রাফসানজানির কাছ থেকে অবৈধপন্থায় মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের জন্য কুরুচিশীল বর্ণনা সংবলিত মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলা লিখে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। 

মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে কথিত ওই সাংবাদিকরা এবং ওসি তার (বাদীর) মেয়ের স্বাক্ষরে মিথ্যা মামলা করে বলে জানান সেলিনা খাতুন।

 

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)