যশোর, বাংলাদেশ || রবিবার, ৩ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

গণমাধ্যম কমিশন গঠনে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : রবিবার, ৩ মে,২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
গণমাধ্যম কমিশন গঠনে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

দেশে একটি গ্রহণযোগ্য গণমাধ্যম কমিশন গঠনে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। আজ রোববার সম্পাদক পরিষদ ও নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা জানান।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। প্রতিবছর ৩ মে পালিত হয় ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে’ বা বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গঠন: মানবাধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রসার।’

আলোচনা সভায় একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন বলেন, ‘অবশ্যই একটা তো গণমাধ্যম কমিশন লাগবেই। কারণ, সরকার তো এখানে আসলে একটা পক্ষ। গণমাধ্যমজগতের যে তৎপরতা...আমরা দেখেছি, সরকার নিজেই তো অপরাধ করে ফেলে। ফলে এ রকম সম্ভাবনা যে জগতে বিরাজ করে, সেই জগতে গণমাধ্যম কমিশনের মতো এ রকম প্রতিষ্ঠান তো লাগবেই। আধুনিক দেশগুলোতে যতটা আমরা দেখেছি, ইতিমধ্যে কিন্তু তারা এ ধরনের কর্তৃপক্ষ বা এ ধরনের অথরিটি তৈরি করেছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম খাতের জবাবদিহি, নীতিনির্ধারণ এবং বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি স্বাধীন ও গ্রহণযোগ্য কমিশন প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে প্রথম ধাপে একটি পরামর্শ কমিটি গঠন করা হবে, যেখানে সাংবাদিক, সম্পাদক, মালিক ও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা যুক্ত থাকবেন।

এ সময় জহির উদ্দিন বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তার এবং প্রচলিত গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি সমন্বিত কাঠামো জরুরি। প্রস্তাবিত কমিশন এই দুই ক্ষেত্রেই নীতিগত দিকনির্দেশনা দিতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই খাতে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা মূলত বৈশ্বিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর হাতে। ফলে জাতীয় পর্যায়ে সমাধান খোঁজা জটিল। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে কীভাবে দায়বদ্ধতার আওতায় আনা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে। এ জন্য বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বক্তব্যে গণমাধ্যমের ভেতরের কিছু কাঠামোগত সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী। টেলিভিশনের টার্গেট রেটিং পয়েন্ট (টিআরপি) ও পত্রিকার প্রচারসংখ্যা নির্ধারণ পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কিছু সীমিত উপাত্তের ভিত্তিতে জাতীয় মানদণ্ড নির্ধারণ করা হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সব সময় সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, গণমাধ্যম খাতকে শুধু ব্যবসা হিসেবে দেখা উচিত নয়; সমাজ গঠনে এর ভূমিকা বিবেচনায় রেখে নীতিগত সহায়তার বিষয়েও সরকার ভাবছে। সভায় তিনি গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্টদের গঠনমূলক মতামত ও সমালোচনা সরাসরি সরকারকে জানানোর আহ্বানও জানান।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর। সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন নোয়াব সভাপতি ও মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, সাবেক গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী, সময়ের আলোর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, দৈনিক সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার করিম, ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)