মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, আজ রোববার ঢাকায় চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন।
সম্মেলনে সারা দেশের সব জেলা প্রশাসকরা উপস্থিত থাকবেন। ৫৬টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীরা সম্মেলনে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের ওপর জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন।
শনিবার (২ মে) বিকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারের নীতি উন্নয়ন কর্মসূচি এবং মাঠ প্রশাসনের জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব বিষয়ে আলোচনা, নির্দেশনা গ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ঐতিহ্যগতভাবে প্রতিবছর জেলা প্রশাসক সম্মেলন আয়োজন করা হয়ে থাকে।
তিনি আরও বলেন, এবারের জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সকাল সাড়ে ১০টায়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে এবারের জেলা প্রশাসক সম্মেলন নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হুমায়ুন কবির বলেন, এবারের সম্মেলনের বিশেষত্ব হচ্ছে, এবার চার দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গতবার সম্মেলনটি ছিল তিন দিনের, এইবার একদিন যোগ হয়েছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, সম্মেলন চলাকালে কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতি, স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
তিনি জানান, এবারের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে মোট অধিবেশন হবে ৩৪টি। তার মধ্যে কার্য অধিবেশন হবে ৩০টি এবং অংশগ্রহণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সংখ্যা হচ্ছে ৫৬টি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মাঠ প্রশাসন থেকে এবার এক হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পেয়েছি। তার মধ্যে কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ৪৯৮টি। সবচেয়ে বেশি প্রস্তাব এসেছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সম্পর্কিত। এ বিভাগের জন্য ৪৪টি প্রস্তাব এসেছে।’
তিনি বলেন, এবারের সম্মেলনের প্রধান আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা, স্থানীয় সরকার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, ই-গভর্নেন্স, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিবীক্ষণ।
অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই বলেছি, এ সম্মেলন চলাকালে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ৩ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়, স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ৪ মে সন্ধ্যা ৭টায় এবং বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ৫ মে বিকাল ৪টায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আমরা আশা করছি মাঠ প্রশাসনের আইনগত প্রশাসনিক এবং আর্থিক চ্যালেঞ্জ সমাধানের করণীয় নির্ধারণ করা যাবে। জেলা পর্যায়ের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সহজ হবে। জনসেবা এবং উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত হবে।’
তিনি বলেন, গত বছর যে জেলা প্রশাসক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল অর্থাৎ ২০২৫ সালের ওই সম্মেলনে মোট ৪০০টি সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিল। তার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি সিদ্ধান্তগুলোর ৬২ শতাংশের মতো বাস্তবায়িত হয়েছে। মধ্য মেয়াদি সিদ্ধান্তের প্রায় ৩৬ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্তের প্রায় ১৬ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। সামগ্রিক বাস্তবায়নের হার ছিল শতকরা ৪৪ ভাগ।
তিনি বলেন, অন্যান্য বারের মতো জেলা প্রশাসক সম্মেলন চলাকালে এবারেও মিডিয়া কর্নার থাকবে। প্রত্যেক সেশনের পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করা হবে এবং এ মিডিয়া কর্নারের দায়িত্বে থাকবেন যুগ্ম সচিব মো. সাইফুল ইসলাম ভুইয়া এবং উপপ্রধান তথ্য অফিসার মোল্লা আহমদ কুতুবউদ্দিন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব খোরশেদ আলম বলেন, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জনবল নিয়োগ, দেশের প্রত্যেকটি হাসপাতালে এন্টিভেনম ইনজেকশনের সরবরাহ বৃদ্ধি, উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে সব হাসপাতালে প্রবীণদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে টেলিমেডিসিন কার্যক্রম সরবরাহ করা, রংপুর বিভাগে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতাল নির্মাণ, বরগুনায় ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীতকরণসহ আইসিইউ ইউনিট চালু করার প্রস্তাব এসেছে জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, জেলা প্রশাসক সম্মেলনের জন্য গত বছরের বাজেট ছিল এক কোটি ৭৩ লাখ টাকা। আর এ বছরে সেই বাজেট কমিয়ে ধরা হয়েছে ৭১ লাখ টাকা।
তিনি বলেন, এর মধ্যে যেসব খাতের বাজেট কমানো যায়, সেটির প্রতি লক্ষ রাখা হয়েছে।