লোকসমাজের প্রকাশক শান্তনু ইসলাম সুমিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন।
বিগত দিনের সীমাহীন অনিয়ম , রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং পেশিশক্তির বলয়কে পদদলিত করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তিনি দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরিচালক নির্বাচিত হলেন।
রোববার (৭ জুন) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সকাল ১০টায় বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৪টায় উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে ঢাকা ও অন্যান্য বিভাগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হলেও আসল নির্বাচনি আমেজ এবং তুমুল লড়াই হয়েছে খুলনা ও বরিশাল বিভাগে।
নির্বাচনে শান্তনু ইসলাম সুমিত ক্যাটাগরি-১ (জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা) থেকে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক নির্বাচিত হন। তিনি ১১ ভোটের মধ্যে ১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। একই পদে শফিকুল আলমও নির্বাচিত হয়েছেন।
এদিকে, দীর্ঘদিন পর দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরামে যশোর থেকে একজন যোগ্য, স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ায় সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ক্রীড়াঙ্গনে অভূতপূর্ব আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে।
তার নির্বাচিত হওয়ার খবরে জেলার ক্রীড়া সংগঠক, সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড় এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয় । তারা বলছেন, সঠিক ক্রীড়া কাঠামো তৈরির মাধ্যমে যশোর তথা খুলনা বিভাগে ক্রিকেটের বিকাশ এবং নতুন ক্রিকেটার তৈরির ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবেন।
যার মাধ্যমে এই অঞ্চল থেকে প্রতিভা ক্রিকেটার তৈরি হবে খুলনা বিভাগের হয়ে আগামী দিনে যারা হাবিবুল বাশার, মাশরাফি, সাকিব, রুবেল, ইমরুল কায়েস, মেহেদী হাসান মিরাজদের মতো মাঠ কাঁপাবেন। পাশাপাশি এই অঞ্চলের ক্রীড়া সুষ্ঠু এবং পরিচালিত ধারার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হবে।
জেলা ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাহতাব নাসির পলাশ বলেন, বিগত দিনে অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে যশোর থেকে বিসিবির পরিচালক হয়েছিলেন তারা যশোরের ক্রীড়াঙ্গনে কোনো সুফল বয়ে আনতে পারেননি। তারা বোর্ড মিটিংয়ে যশোরের ক্রিকেটের কোনো সুবিধা অসুবিধার কথাটি বলতে পারেননি।
এবারের বিসিরি নির্বাচনে শান্তনু ইসলাম সুমিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। এরপর নির্বাচিত কাউন্সিলরদের ভোটে বিসিবির পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। তার মাধ্যমে যশোরের ক্রিকেট শুধু নয়, সমগ্র ক্রীড়াঙ্গনের চিত্র পাল্টে যাবে। বিশেষ করে যশোরের নতুন করে নিয়মিত ক্রিকেট লীগ ও টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। ক্রিকেটের পাশাপাশি যশোরের মাঠে আবার সকল ইভেন্টের যাত্রা শুরু হবে।
‘সবচেয়ে ভালোর লাগার বিষয়টি হলো শান্তনু ইসলাম সুমিতের কাছে গিয়ে যশোরের ক্রীড়া সংগঠক থেকে শুরু করে খেলোয়াড়রা খোলা মনে কথা বলতে পারবে। একটি ক্রীড়া কাঠামো তৈরি হবে, যে কাঠামোর মধ্য দিয়ে যশোর তথা খুলনা বিভাগের ক্রীড়াঙ্গন সঠিক সুষ্ঠু এবং পরিচালিত ধারায় হবে,’ বলেন পলাশ।
সাবেক ক্রিকেটার এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক এম এ আকসাদ সিদ্দিকী শৈবাল বলেন, ‘বিগত দিনে আমাদের ক্রীড়া সংগঠকদের মতামতকে পদদলিত করে রাজনৈতিক ক্ষমতাবলে একজন কাউন্সিলর থেকে বিসিরি পরিচালক হয়েছিলেন। কিন্তু তার কোনো কার্যক্রম যশোরের মাটিতে আমরা ক্রীড়া সংগঠকরা দেখিনি।’
‘কিন্তু শান্তনু ইসলাম সুমিতকে আমরা যশোরের ক্রীড়াঙ্গনে পেয়েছি। সে কারণে আমরা যশোরের সর্বস্তরের ক্রীড়া সংগঠক, খেলোয়াড়রা মনে করি আপাদমস্তক একজন যোগ্য ব্যক্তি যশোর থেকে বিসিবির পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। তার হাত ধরের যশোরের শুধু ক্রিকেট নয়, সমগ্র ক্রীড়াঙ্গন নতুন মাত্রা পাবে,’ যোগ করেন শৈবাল।
ক্রিকেটার তৈরির ক্ষেত্রে স্থানীয় এবং বিসিবির অনেক সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। শান্তনু ইসলাম সুমিতের কাছ থেকে আগামী দিনে আমাদের যশোরের ক্রিকেটার উদার চিত্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা পাবে বলে ক্রীড়া সংগঠকদের আশা।