কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে ছুটে আসেন যুবক। উদ্দেশ্য পছন্দের মানুষকে বিয়ে। তবে, সে আশা পূরণ হয়নি তার।
প্রেমিকার বয়স কম হওয়ায় ওই চীনা যুবককে খালি হতে ফিরতে হয়েছে। তবে, তিনি প্রিয়তমার জন্য দেড় বছর অপেক্ষা করবেন বলে জানান। বৃহস্পতিবার দুপুরে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে তিনি কুমারখালী ত্যাগ করেন।
ওই চীনা যুবকের নাম এম এ হাইশান (৩৯) এবং বাংলাদেশি তরুণীর নাম রিয়া আক্তার (১৬)।
বুধবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরপার সাঁওতা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট মাস আগে একটি অ্যাপসের মাধ্যমে কুমারখালীর রিয়ার সঙ্গে চীনের যুবক হাইশানের পরিচয় হয়। দুজনের মধ্যে পরিচয় ও কথাবার্তার একপর্যায়ে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। আর বন্ধুত্ব থেকেই তাদের মধ্যে হয় প্রেমের সম্পর্ক। সেই প্রেমকে পরিণয়ে রূপ দিতে ১০ জুন সকালে চীনের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন। তাকে রিসিভ করে কুমারখালী নিজ বাড়িতে নিয়ে যান রিয়া ও তার পরিবারের লোকজন।
রিয়া আক্তার বলেন, প্রায় আট মাস আগে অ্যাপসের মাধ্যমে আমাদের পরিচয় এবং বন্ধুত্ব থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বুধবার বিকেলে আমাদের বাসায় আসেন, আমি আর দাদি তাকে এয়ারপোর্টে আনতে গিয়েছিলাম। আমি এসএসসি পরীক্ষার্থী, বয়স কম থাকায় পরিবারসহ অনেকে বিয়েতে অসম্মতি জানিয়েছেন। সেকারণে আমরা বিয়ে করছি না।
এম এ হাইশান বৃহস্পতিবার দুপুরে আমাদের বাসা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। তবে আমি অপেক্ষা করবো যতদিন পর্যন্ত না আমার বিয়ের বয়স হয়। তিনি যদি আর না আসেন, তাহলে নতুন করে ভাববো।
মেয়ের মা জানান, ওই ছেলের সঙ্গে আমার মেয়ের পরিচয় হওয়ার পর সে বিষয়টি বলেছে। বুধবার সে বাংলাদেশে এসেছে। মেয়ের বয়স না হওয়ায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিয়ে দেব না।
চীনা যুবক এম এ হাইশান মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে ট্রান্সলেট করে বলেন, আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক থেকে প্রেম। এসেছিলাম বিয়ে করে দেশে ফিরবো। কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে বিয়েটা হচ্ছে না। তবে, আমার প্রিয়তমার জন্য দেড়বছর অপেক্ষা করবো।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, এই গ্রামে এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। চীন থেকে ওই ছেলে এসেছে আমাদের গ্রামের মেয়েকে বিয়ে করতে। তার সম্পর্কে তো আমরা কিছু জানি না। তাছাড়া তার ভাষাও বুঝি না। আশপাশের লোকজন তাকে দেখার জন্য আসছেন।
চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এনামুল হক মনজু বলেন, প্রেমের সম্পর্কের জেরে আমাদের গ্রামে চীনা যুবক এসেছে। রাতে প্রশাসন ও আমরা থেকে পাহারা দিয়েছি। মেয়ের পরিবার বিষয়টি বুঝতে পেরেছে, এজন্য তারা বিয়ে দিতে আগ্রহী নন। আর মেয়ে কেবল এসএসসি পরিক্ষার্থী, বয়সও কম। এজন্য দুপুরে প্রশাসনের সহায়তায় চীনা যুবককে তার দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, শুনেছি চীনা যুবক কুমারখালীতে এসেছে। তিনি তার দেশে ফেরত গেছেন। বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছিলাম। মেয়ের বয়স কম। এ জন্য পরিবার বিয়ের পক্ষে অনুমতি দেয়নি।