সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরা-৪ আসনের আলোচিত এমপি জিএম নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামা সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়েছে নেট দুনিয়ায়।
এ ঘটনার পর এমপির প্রতিবেশীরা হতবাক হয়ে জানিয়েছেন, উনার দ্বিতীয় স্ত্রী রয়েছে, সেটি এই প্রথম ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন।
ছড়িয়ে পড়া কাবিননামা অনুযায়ী, বরের নাম জি এম নজরুল ইসলাম (পিতা: মৃত জনাব আলী গাজী, মাতা: কাঞ্চন বিবি; সাং- ইসমাইলপুর, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা)। কনের নাম মোছা. মরিয়ম খাতুন (পিতা: মো. মাসুম বিল্লাহ, মাতা: কাকুলী; সাং- দেবীপুর, গাবুরা, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা)।
কাবিননামা অনুযায়ী কনের জন্ম তারিখ ২৭.০৫.১৯৯৮ খ্রি. এবং বিয়ের তারিখ ১৭.০৬.২০২৪। কাবিননামায় দেনমোহর ধার্য করা হয়েছে তিন লাখ টাকা। অথচ, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া মেয়েটির বায়োডাটা, যেখানে জোর সুপারিশ করেন এমপি নজরুল নিজেই- তাতে তার জন্মতারিখ রয়েছে- ২০০৮ সালের ২২ মে এবং ২০২৬ সালে ঢাকা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।
অন্যদিকে, মেয়েটি ফেসবুকে দেওয়া ভিডিও বক্তব্যে বলেছেন- ২০২৬ সালের ১৭ জুন শ্যামনগরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়।
মগবাজারের ভিডিওতে দেখা গেছে, এমপি নজরুল ইসলাম বলেছেন- মেয়েটিকে এই প্রথম তিনি সেখানে নিয়ে যান এবং তাকে চেনেন না। তিনি দাবি করেন, মেয়েটিকে তার কাছে নিয়ে যান তার গাড়িচালক।
ভিডিও ও কাবিননামা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের বিষয়ে জি এম নজরুল ইসলাম জানান, ভিডিওতে দৃশ্যমান নারীটি তার আইনসম্মত দ্বিতীয় স্ত্রী (মরিয়ম খাতুন)।
তিনি জানান, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং ধর্মীয় ও আইন রীতি মেনেই তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বয়স ও পারিবারিক ব্যবধানের কারণে বিষয়টি প্রাথমিকভাবে গোপন রাখা হয়েছিল।
তিনি আরও দাবি করেন, তার শ্বশুর মাসুম বিল্লাহর পারিবারিক বিরোধ ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের চক্রান্তের অংশ হিসেবে পরিকল্পিতভাবে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার সম্মানহানির চেষ্টা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি এ ঘটনার পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ব্যক্ত করেন।
এদিকে, জেলা জামায়াতের দায়িত্বশীল সূত্রসমূহ থেকে জানানো হয়েছে, কাবিননামার সত্যতা ও পারিবারিকভাবে বিয়ের বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন এবং পুরো ঘটনাটির পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত চক্রান্ত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার বাড়ির পাশেই এমপি সাহেবের বাড়ি, কিন্তু দ্বিতীয় বিয়ের কথা আগে কখনও শুনিনি; আজকেই প্রথম শুনলাম।
অপর প্রতিবেশী আব্দুল আলিম বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারলাম এমপি সাহেবের দ্বিতীয় স্ত্রী রয়েছে। এর আগে জানতাম উনার একটিই বিয়ে।
এদিকে, এমপি নজরুল ও মেয়েটির অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরালের পর জামায়াত কর্মীরা দাবি করে, ভিডিওটি এআই নির্মিত। পরবর্তীতে ফ্যাক্ট চেকিংয়ে ভিডিওটি সত্য প্রমাণিত হলে মেয়েটিকে এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে প্রচার করা হয়। এর সপক্ষে এমপির প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী দাবিকারীরা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা কোনো স্ক্রিপ্ট দেখে পড়েছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।