যশোরে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছেন। শিক্ষার মূল ভিত্তি প্রাথমিক পর্যায় থেকে দিতে হয়। ফলে, প্রাথমিক শিক্ষাকে আরো আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অবকাঠামো নয়, প্রাথমিক শিক্ষার দিকে বেশি মনোযোগী বর্তমান সরকার। সারাদেশে কতগুলো বিল্ডিং হলো, বাজেট কতো, শেষ হলো কতটি- এইসব মূল লক্ষ্য নয়। আমাদের মূল লক্ষ্য শিক্ষার মান। আর শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিশুদের প্রকৃত শিক্ষার ব্যবস্থা করা। শিক্ষার্থীরা কী শিখছে, এর ভিত্তি কী, তা নিরুপণ করবে মন্ত্রণালয়।
বুধবার বিকেলে যশোর পিটিআই অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি প্রত্যাশা’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, দেশে নতুন সাত হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার অনেক বড়। ৬৫ হাজারের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে এই মন্ত্রণালয়ের আওতায়। শিক্ষকের সংখ্যা সাড়ে তিন লাখের মতো। বিগত দিনে অনেক মামলার কারণে নতুন নিয়োগে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল। বতর্মানে সে পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে মন্ত্রণালয়। অনেক শূন্য পদ রয়েছে সেখানে নিয়োগ দিতে হবে। বছরখানেক আগে সাড়ে ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এটার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষকরা চাকরি নেওয়ার পর স্কুলে যেতেন এবং কোনো একটি সময় প্রশিক্ষণ নিতেন। কিন্ত এখন নতুন নীতিমালা তৈরি হয়েছে। অক্টোবরের মধ্যে সাড়ে ১৪ হাজার নতুন শিক্ষক নিয়োগ চূড়ান্ত হয়েছে। তারা শর্ট ট্রেনিং করে ক্লাসে যাবেন। পরে দশ মাসের ট্রেনিং করবেন। উপজেলার পর্যায়ে ট্রেনিংয়ের যে ব্যবস্থা ছিল, তা এখন বন্ধ আছে। অচিরেই তা চালু হবে। আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে সকল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদী।
‘প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রতিটি স্কুলে ক্রীড়াশিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে যে গুরুত্ব দিয়েছেন, সে বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, প্রতিটি স্কুলে খেলার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গার ব্যবস্থা করা হবে। যেসব স্কুলে মাঠ নেই, সেই সব স্কুলের পাশের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের রুটিনমাফিক খেলার ব্যবস্থা করা যায় কি না সরকার ভেবে দেখছে। আমরা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাথে কাজ করছি শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে। স্কুলগুলোর ক্ষমতায়নের কথা ভাবছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজনে চুক্তিভিক্তিক নিয়োগ দিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন,’ বলেন ববি হাজ্জাজ।
প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ডিজি থেকে শুরু করে সবার কাজ তদারকি করা হবে। স্কুলে খাবার দেওয়া হচ্ছে। এখন রান্না করা খাবার দেওয়া যায় কি না সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি নিয়ে একটি পাইলট প্রকল্প নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিশুদের ভর্তি করতে অভিভাবকরা ইচ্ছা পোষণ করেন না। সেখানে লেখাপড়ার মান ও পরিবেশ নিয়ে যথেষ্ট অভিযোগ আছে। এই দিকটা উন্নত করতে সরকার কী ভাবছে- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার আগে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেবে। একজন শিক্ষককে মূল্যায়ন করা হবে তার শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের যোগ্যতা নিয়ে। শিশুরা ভালো রেজাল্ট করলে অভিভাবকরা এমনিতেই স্কুলের দিকে ঝুঁকবে। এইদিকেই বর্তমান সরকারের নজর। প্রাথমিক শিক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ব্রিফিংকালে আরও উপস্থিত ছিলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন) মতিয়ার রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (উপবৃত্তি) মাসুদ হোসেন, খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক ড. শফিকুল ইসলাম, আব্দুল আলীম, যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ।