স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরের চৌগাছায় বিএনপি কর্মী মো. হীরাকে রাজনৈতিক হয়রানি ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী কেয়া খাতুন। তিনি স্বামীর অবিলম্বে মুক্তি এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন কেয়া খাতুন।
তিনি বলেন, তার স্বামী মো. হীরা ২০০২ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে থাকতে হয়। পরে এলাকায় ফিরে এলে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেওয়া হয়।
কেয়া খাতুনের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে তার স্বামীকেও নাশকতার মামলায় আসামি করা হয়। এসব মামলায় জামিনের জন্য তাদের হাইকোর্ট পর্যন্ত যেতে হয়েছে। এর পক্ষে প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুর ১২টার দিকে চৌগাছা হাসপাতালের সামনে থেকে যশোর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা পরোয়ানা ছাড়াই তার স্বামীকে নিয়ে যায়। পরদিন তাকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের একটি নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে কেয়া খাতুন বলেন, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হওয়ার পরও কেন নতুন করে তার স্বামীকে নাশকতার মামলায় জড়ানো হলো, সেটিই তাদের প্রশ্ন। একটি স্থানীয় কুচক্রী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কেয়া খাতুন আরও বলেন, তার স্বামীর ফেসবুক আইডি ও অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করলেই তার রাজনৈতিক ভূমিকা সম্পর্কে সত্যতা পাওয়া যাবে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন প্রশাসন ও বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে মো. হীরার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং তাকে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে হীরার মা নেছারন নেছা ও শাশুড়ি রাবেয়া বেগম উপস্থিত ছিলেন।