কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
খুলনার কয়রা উপজেলায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন দলটির এক নেতা ও এক সমর্থক। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে তারা নিজেদের অবস্থান জানান।
দুপুর ১২টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহিন আলম। তিনি ওই গ্রামের আলহাজ শহিদুজ্জামান শহিদের ছেলে।
লিখিত বক্তব্যে শাহিন আলম বলেন, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পারিবারিক সমস্যা ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান না তিনি। এ কারণে স্বেচ্ছায় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি না করলেও দলটির সমর্থকদের সঙ্গে চলাফেরা করতেন। কোনো রাজনৈতিক পদে দায়িত্ব পালন করেননি এবং দলের কর্মীও ছিলেন না। সমর্থক হিসেবে তাদের সঙ্গে ছিলেন। বর্তমানে দেশের পরিস্থিতিতে সেই সমর্থন বা সম্পৃক্ততা বজায় রাখা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তাই স্বেচ্ছায় এ সম্পর্ক থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
শাহিন আলম বলেন, সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। একই সঙ্গে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়টি অবহিত করে সহযোগিতা কামনা করেছেন।
অন্যদিকে, সকাল ১০টার দিকে একই প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগের মহারাজপুর ইউনিয়ন শাখার যুগ্ম সম্পাদক মো. ফেরদাউসুর রহমান পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি মহারাজপুর ইউনিয়নের কালনা গ্রামের মৃত মকবুল হাওলাদারের ছেলে।
ফেরদাউসুর রহমান বলেন, সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পারিবারিক সমস্যা ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে আর কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে চান না। এ কারণে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কখনো কোনো দায়িত্ব পালন করেননি। তিনি একজন শিক্ষক হওয়ায় তার পক্ষে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন ফেরদাউসুর রহমান।