সুবর্ণভূমি ডেস্ক
জাতীয় কৃষক খেতমজুর সমিতির সমাবেশে নেতারা বলেছেন, ভরা মৌসুমেও কৃষক চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ, সার ও জ্বালানি তেল পাচ্ছেন না। কৃষককে চড়া দামে সার কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। সরকার এক লাফে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। যা কৃষকের পেটে লাথি মারার সামিল। নতুন করে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া শুরু হয়েছে, যেখানে সরকারি দলের নেতারা নিজেদের ইচ্ছেমতো লোকজনকে বসিয়ে লুটপাটের নতুন বন্দোবস্ত করছেন।
তারা বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হয়ে গেলেও দেশের কৃষকের ভাগ্যের কোনো উন্নয়ন হয়নি। যখন যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তারা কৃষকের সঙ্গে কেবল প্রতারণাই করে গেছে। শাসকগোষ্ঠী বারবার পুঁজিবাদী ও ব্যবসায়ী শ্রেণির কালোবাজারিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কৃষিখাত এবং কৃষির সঙ্গে জড়িত সব ধরনের পণ্য ও কাঁচামালের দাম হু-হু করে বাড়িয়েছে। অথচ, যুগের পর যুগ হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেও কৃষক তার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না।
বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোর সদর উপজেলার বাগেরহাট বাজারে সংগঠনের সদর উপজেলা কমিটি আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ ও পথসভায় নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।
নেতারা বলেন, ২৪-এর ঐতিহাসিক গণ-আন্দোলনে এ দেশের বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে ছাত্র সমাজের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কৃষক, মজুর ও চাষারা রাজপথে রক্ত দিয়েছেন, আন্দোলন করেছেন। কিন্তু যে বৈষম্যমুক্ত সমাজব্যবস্থা গড়ার যে কথা ছিল, সরকার আজ সেই মূল প্রতিশ্রুতি থেকে অনেক দূরে পিছিয়ে এসেছে। গণ-আন্দোলনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এসে আমেরিকার সঙ্গে একের পর এক গোলামি চুক্তি সই করে গেছে।
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে নেতারা বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে বোয়িং বিমান কেনার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। সারা দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের নাভিশ্বাস। আর সরকার চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় সার, বিদ্যুৎ ও তেলের দাম চড়া করে, কৃষকের রক্তচোষা সেই টাকা দিয়ে বোয়িং বিমান কিনছে। একই সঙ্গে আমেরিকা থেকে নানা খাদ্যপণ্য ও মাংস আমদানি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের কৃষকদের বাঁচান। কেননা কৃষক বাঁচলে তবেই দেশ বাঁচবে। এ দেশের প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। মধ্যস্থতাকারী লুটেরা ও পুঁজিপতিদের হাত থেকে কৃষকদের রক্ষা করতে অবিলম্বে ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। সার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের নির্বিঘ্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে এবং সবকিছুর বর্ধিত মূল্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
জাতীয় খেতমজুর সমিতি যশোর জেলা কমিটির নেতা শাহাবুদ্দিন বাটুলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তসলিম-উর রহমান, জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক পলাশ বিশ্বাস, কৃষকনেতা নেতা রজব আলী, হযরত আলী, আব্দুস সাত্তার, আব্দুল মালেক প্রমুখ।
সঞ্চালনা করেন বিপ্লবী যুবমৈত্রী যশোরের সদস্য শাকিল আহমেদ। বিজ্ঞপ্তি