সুবর্ণভূমি ডেস্ক
সরকার দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে চলছি, বলবো আমি এই মুহূর্তে। ফিজিবিলিটি স্টাডি অলরেডি কমপ্লিট। অর্থায়নের জায়গাটা নিয়ে ভাবছি, কথা বলছি। আর ধরেন অন্যান্য প্রাক-প্রস্তুতি চলছে।’
সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে আসন্ন ঈদুল আজহায় নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিতে প্রস্তুতি সভা শেষে এ কথা বলেন তিনি।
সেতুমন্ত্রী বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া পয়েন্টে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কমে যাবে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নিয়ে তিনটি প্রস্তাবনা আছে তার এক নম্বর প্রস্তাবনা দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে।
চলতি মাসের শেষদিকে পবিত্র ঈদুল আজহার যাত্রা নিয়ে তিনি বলেন, এ বছর ঈদে গার্মেন্টসগুলো পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়া হবে। গত ঈদে হঠাৎ করে গার্মেন্টস ছুটি দেয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। তাই এবার গার্মেন্টসগুলো পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, গত ঈদুল ফিতরের সময় ঈদযাত্রায় যেসকল ব্যত্যয় ঘটেছিল, সেগুলো নিরসনে বিভিন্ন উদ্যোগ নেবে সরকার। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ৬৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।
পদ্মা নদীর ওপর মাওয়া পয়েন্টে বর্তমানে একটি সেতু রয়েছে, যেটি বাংলাদেশের দীর্ঘতম। পদ্মা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয় বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে। সেসময় মোট তিনটি স্থানে সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়। কিন্তু সেতু নির্মাণের মূল কাজ শুরুর আগেই খালেদা জিয়া সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পরে শেখ হাসিনার শাসনামলে মাওয়া পয়েন্টে সেতু নির্মিত হয়। সেতু নির্মাণের এই মেগা প্রজেক্টে বিপুল টাকা লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। এমনকি বিশ্বব্যাংকের আপত্তির মুখে তৎকালীন সড়কমন্ত্রীর চাকরিও যায়।
বিএনপি বিভিন্ন সময় বলে এসেছে, তারা ক্ষমতায় গেলে পদ্মা নদীতে আরেকটি সেতু নির্মাণ করবে। এবার তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি ক্ষমতায় যাওয়ার তিন মাসেরও আগে সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী সেই ঘোষণা দিলেন।
পদ্মা নদীর কারণে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সরাসরি সংযোগ ছিল না। সেই কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্পায়নসহ অন্যান্য উন্নয়ন হয়নি। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। বিশেষ করে খুলনা, যশোর, বাগেরহাট, নড়াইল এবং বরিশাল বিভাগের মানুষ এর সুফল ভোগ করছেন। এখন দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া পয়েন্টে দ্বিতীয় সেতু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তর কুষ্টিয়া, বৃহত্তর যশোরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত সুবিধা আরও বাড়বে।