স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবিতে বেনাপোলে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বেনাপোল কাস্টম হাউসের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এদিকে, আন্দোলনের অংশ হিসেবে সকাল থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে মালামাল পরিবহন বন্ধ রাখেন ট্রাকশ্রমিকেরা। এতে বন্দরের পণ্য পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ মাখন। বক্তব্য দেন মশিয়ার রহমান, মুসা করিম ও রিপন হোসেনসহ সংগঠনের নেতারা।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এ কে এম আতিকুজ্জামান সনির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অর্থের বিনিময়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। এসব ঘটনার প্রতিবাদ এবং আবু তাহেরকে বিএনপি থেকে বহিষ্কারের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
তারা বলেন, বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতিতে ৭০০-এর বেশি সদস্য রয়েছেন। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে সদস্যদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও কল্যাণে কাজ করছে। সদস্যদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে নিয়ে গঠিত কল্যাণ তহবিল থেকে মৃত্যুকালীন দুই লাখ টাকা ভাতা এবং চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়। সংগঠনের সভাপতি আতিকুজ্জামান সনির নেতৃত্বে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় সদস্যরা সন্তুষ্ট বলে দাবি করেন তারা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, আতিকুজ্জামান সনি, যিনি বেনাপোল পৌর বিএনপির সহসভাপতিও, তারসহ বিএনপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য’ ছড়ানো হচ্ছে। এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করে এ ধরনের ‘অপপ্রচার’ বন্ধ এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তারা।
সমাবেশে মোস্তাক আহমেদ মাখন বলেন, ‘আমাদের সংগঠনে কোনো অপশক্তির ঠাঁই নেই। সংগঠনকে নিয়ে কেউ ষড়যন্ত্র করলে তাকে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।’
সমাবেশ থেকে আবু তাহেরকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিএনপি থেকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে বেনাপোল বন্দর থেকে মালামাল পরিবহন বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।
এ দাবির সঙ্গে আরও দুটি সংগঠন একাত্মতা প্রকাশ করেছে বলে দাবি করেন তারা।
এদিকে, সকাল থেকে বন্দরে মালামাল পরিবহন বন্ধ থাকায় আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটে। আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণ না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।