খুলনা অফিস
জাতীয় সংসদের হুইপ বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, সুপ্ত, গুপ্ত ও ফ্যাসিস্টরা মিলে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। পার্শ্ববর্তী দেশে আন্দোলন চলছে, যার সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, ১৭ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে থেকে এদের মোকাবেলা করেছে। ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে বাড়ি ফিরেছে। প্রয়োজনে আবারও নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের মোকাবেলা করবে।
বুধবার দুপুরে খুলনায় বিএনপি নেতাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবিশে পালনের লক্ষ্যে নগরীর বিভিন্ন মন্দিরে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দকে দিকনির্দেশনা প্রদানের লক্ষ্যে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে মহানগর বিএনপি।
প্রধান অতিথি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করছে। শারদীয় দুর্গাপূজা সর্বজনীন রূপ নিয়েছে। ফলে সব ধর্মের মানুষের জনসমাগম ঘটছে। এ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে অরাজগতা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য মন্দিরের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় বিএনপির ভলানটিয়ারদের সর্বোচ্চ সচেতন থাকতে হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে নতুন ধারার রাজনীতির সূচনা করেছেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে বের হয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। তার প্রচেষ্টা প্রত্যক্ষ করে মুরব্বী বয়োজ্যেষ্ঠরা বলছেন, একজন নতুন জিয়াউর রহমানের আবির্ভাব ঘটেছে। কিন্ত পালিয়ে যাওয়া পলাতক অপশক্তি চায় না দেশের উন্নয়ন হোক, মানুষ ভালো থাকুক। এ জন্য তারা চক্রান্ত ষড়যন্ত্র করছে।
এবার দুর্গাপূজা সর্ববৃহৎ পরিসরে জাকজমকপূর্ণ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে ঘোষণা দিয়ে রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, খুলনা মহানগরের ৭৫ টি মন্ডপে দায়িত্বরত নেতৃবৃন্দের কাজের মনিটরিং এবং পূজাশেষে মূল্যায়ন সভা থেকে শ্রেষ্ঠদের পুরষ্কৃত করা হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন। সূচনা বক্তব্য রাখেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত এমপি ফাহমিদা হক। সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদীর সঞ্চালনায় এ সময় মঞ্চে সাবেক এমপি সৈয়দা নার্গিস আলী, মাসুদ পারভেজ বাবু, ফখরুল আলম, সৈয়দা রেহানা ঈসাসহ মহানগর, থানা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে শফিকুল আলম তুহিন জানান, এবারের দুর্গোৎসবকে শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও ঝুঁকিমুক্ত রাখতে মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্ততি গ্রহণ করা হয়েছে। ৩৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। নগরের ৭৫ টি মন্ডপের প্রত্যেকটিতে দুই জন করে ভলানটিয়ার নিয়োজিত থাকবে। একটি মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে, যারা পূজা শেষ হওয়া পর্যন্ত নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি মনিটর করবে।