লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির অবৈধ ভাটায় অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন।
অভিযানে ১৫টি চুল্লি ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত তিন শ্রমিক ও ভাটার মালিককে জরিমানা করেছেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের সারুলিয়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধভাবে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির ভাটায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ভাটার মালিকসহ তিনজন কর্মীকে আটক করা হয়। আরও দুজন পালিয়ে যান। পরে কয়লা তৈরির ১৫টি চুল্লি ভেঙে ফেলা হয় এবং ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে দেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) মো. রুবেল শেখ অবৈধ কয়লার ভাটার মালিক খন্দকার ওবায়দুজ্জামানকে ২০ হাজার টাকা, কর্মচারী মো. হিরুকে এক হাজার টাকা এবং আব্দুল্লাহ ও কামালকে ৫০০ টাকা করে জরিমানা করেন।
অভিযানে আনুমানিক তিন হাজার মণ কাঠ এবং ৯০২ বস্তা কয়লা জব্দ করা হয়। জব্দ করা কাঠের প্রতি মণ ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং কয়লার প্রতি কেজি ২৪ থেকে ২৮ টাকা দরে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রুবেল শেখ জানান, কাঠ পুড়িয়ে কয়লা বানানো আইনত দণ্ডনীয় ও নিষিদ্ধ। এ অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় তিন কর্মী ও ভাটার মালিককে জরিমানা করা হয়েছে।
জব্দ করা মালামাল কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে তা বিক্রি করে সমুদয় টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে লোহাগড়া ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ও আনসার সদস্যরা ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সার্বিক সহযোগিতা করেন।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।