মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় একটি অবৈধ ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দেড় লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একইসঙ্গে ভাটাটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে গাংনী উপজেলার ধানখোলা এলাকায় অবস্থিত ‘মেসার্স দোয়েল ব্রিকস’ নামের ইটভাটায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শেখ তৌহিদুল কবির।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, ইটভাটাটিতে অবৈধভাবে কাঠ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
পাশাপাশি ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপনা (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এর ধারা ৬ লঙ্ঘনের অভিযোগও প্রমাণিত হয়।
এ অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করে তাৎক্ষণিক আদায় করেন এবং ভবিষ্যতে আইন মেনে চলার নির্দেশ দেন।
অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, মেহেরপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শেখ কামাল মেহেদী। এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শেখ কামাল মেহেদী বলেন, ‘পরিবেশ দূষণ রোধে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় শতাধিক অবৈধ ইটভাটা এখনও সক্রিয় রয়েছে, যেগুলোর অনেকেরই পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই।
এসব ভাটার বেশিরভাগই জনবসতিপূর্ণ এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজার সংলগ্ন স্থানে গড়ে উঠেছে, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইটভাটা মালিক অভিযোগ করেছেন, সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তার কাছে নিয়মিত অর্থ প্রদান না করলে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তাদের দাবি, মাঝেমধ্যে কিছু ভাটায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হলেও পরে তা ‘সমন্বয়’ করে কার্যক্রম আবার চালু রাখার সুযোগ দেওয়া হয়।
পরিবেশবিদরা বলছেন, অবৈধ ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে।
এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।