স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়া বাজারে বিকাশ ও ব্যাংক এশিয়ার এক এজেন্ট প্রতিষ্ঠান থেকে দিনদুপুরে চোখের পলকে সাড়ে চার লাখ টাকা চুরির ২২ দিন পার হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। বারবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও আশানুরূপ সহযোগিতা না পেয়ে অবশেষে আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন ভুক্তভোগী।
ওই ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রূপদিয়া বাজারের 'নিউ আলী টেলিকম'-এর স্বত্বাধিকারী রমজান আলী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তালাবদ্ধ করে জরুরি কাজে সামান্য সময়ের জন্য বাইরে যান। এই সুযোগে এক ব্যক্তি দোকানের কাচের দরজা ও ক্যাশ ড্রয়ারের তালা ভেঙে চোখের পলকে নগদ সাড়ে চার লাখ টাকা লুট করে সটকে পড়ে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। তিনি যশোর শহরের বেজপাড়া মেইন রোড এলাকার বিশ্বজিৎ পাল (৪৬)।
ব্যবসায়ী রমজান আলী জানান, চোরকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে ঘটনার পরদিন ২৭ এপ্রিল যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় এজাহার দায়ের করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে থানা একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করে তা তদন্তের জন্য নরেন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই কবির হোসেন মোল্যাকে দায়িত্ব দেয়। কিন্তু গত ২২ দিনেও তদন্তের কোনো অগ্রগতি হয়নি। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তদন্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ডিবির (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
তদন্তে পুলিশের এমন রহস্যজনক ভূমিকা ও গড়িমসিতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ১২ মে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতে একটি নালিশি মামলা রুজু করেন রমজান আলী।
তার আইনজীবী মো. আশিকুর রহমান জানান, বিচারক নালিশি দরখাস্তটি আমলে নিয়েছেন এবং শিগগির ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য কোতোয়ালি থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত)-কে নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে তদন্তে গড়িমসির অভিযোগ অস্বীকার করে নরেন্দ্রপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই কবির হোসেন বলেন, ‘আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলমান রয়েছে। বাদী তার আইনি সহায়তার জন্য যেখানে ইচ্ছা যেতে পারেন, আমি কেন তাকে ডিবির কাছে যেতে বলবো?’
রূপদিয়া বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীদের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তের চেহারা ও স্পষ্ট প্রমাণ থাকার পরও পুলিশ যদি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিত, তবে লুণ্ঠিত টাকা উদ্ধার এবং চোরকে গ্রেপ্তার করা অনেক সহজ হতো। পুলিশের এমন নিষ্ক্রিয়তায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।