স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
প্রতারণার মাধ্যমে ২৪ লাখ টাকা আত্মাসাতের দায়ে সাবেক সেনাসদস্য রফিকুল ইসলামকে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন যশোরের আদালত।
এ মামলার অপর দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সুলতানা এক রায়ে এ আদেশ দিয়েছেন।
সাজাপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম নড়াইলের লোহগড়া উপজেলার রাহুপুর গ্রামের মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, যশোর শহরের পুরাতন কসবা বিবি রোডের ইকরামুজ্জামান সেনাবাহিনীতে চাকরির সুবাদে কুয়েতে মিশনে যান। মিশনে থাকা অবস্থায় আসামি রফিকুল ইসলাম ও সাক্ষী মনির হোসেন, নাসির উদ্দিন ও মইনুল হোসেনের সাথে তার পরিচয়। ইকরামুজ্জামান কুয়েত সেনাবাহিনীতে কর্মরত অপর বাংলাদেশি সেনা সদস্যদের বেতন উত্তোলন করে তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে পাঠাতেন। এরপর তার স্ত্রী বিকাশ ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সেনাসদস্যদের পরিবারের কাছে টাকা পাঠিয়ে দিতেন। আসামি রফিকুল ইসলামও বাংলাদেশি সেনাসদস্যদের বেতনের টাকা তুলে দেশে পাঠাতেন। পরবর্তীতে রফিকুল ইসলাম তার পরিচিত সদস্যদের বেতনের টাকা তুলে ইকরামুজ্জামানের মাধ্যমে পাঠাতে শুরু করেন। এরমধ্যে ইকরামুজ্জামানের স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি দেশে টাকা পাঠানো নিয়ে সমস্যায় পড়েন। এ সময় আসামি রফিকুল ইসলাম তার ছেলে মেহেদী হাসান সাকিবের ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠাতে বলেন। ইকরামুজ্জামান সরল বিশ্বাসে মেহেদীর ব্যাংক হিসাবে ২৪ লাখ টাকা পাঠান। আসামি মেহেদী কুয়েত থেকে পাঠানো টাকা সেনাসদস্যদের পরিবারকে না দিয়ে আত্মসাত করেন। বিষয়টি কুয়েতে জানাজানি হলে ইকরামুজ্জামানসহ কুয়েত সরকার ১৩ জনকে দেশে পাঠিয়ে দেয়। ইকরামুজ্জামান দেশে এসে আসামি ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তা না দিয়ে ঘুরাতে থাকেন।
টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী এবং ছেলেকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। এ মামলা দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড, দশ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।
সাজাপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম কারাগারে আছেন।