স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
আগাম ও বাধ্যতামূলক ভ্যাট পরিশোধ, পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়নের জটিলতা এবং ইটভাটার জন্য মাটির সহজলভ্যতা নিশ্চিতসহ চার দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে সারা দেশের ইটভাটায় উৎপাদন বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইটভাটা মালিকরা।
তাদের দাবি, বর্তমান ভ্যাট ব্যবস্থা ও পরিবেশসংক্রান্ত বিধিনিষেধে শিল্পটি চরম সংকটে পড়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে এ শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে যশোর ক্লাবের লাক্সারি ডাইন রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির খুলনা বিভাগীয় মালিকদের প্রতিনিধি সভায় এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের খুলনা বিভাগীয় সভাপতি কাজী নাজির আহমেদ মুন্নু।
সভায় চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইটভাটার লাইসেন্স নবায়নের জটিলতা দূর করা, মাটি সংগ্রহে প্রশাসনিক বাধা অপসারণ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নীতিগত সহায়তা প্রদান এবং ২০১৩ ও ২০১৯ সালের পরিবেশ আইন পরিবেশসম্মতভাবে সংশোধন করে লাইসেন্স নবায়নের সুযোগ নিশ্চিত করা।
কাজী নাজির আহমেদ মুন্নু বলেন, আইন অনুযায়ী ভ্যাট পরিশোধের দায় ক্রেতার হলেও ইট প্রস্তুত বা বিক্রির আগেই ভাটা মালিকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভ্যাট পরিশোধ করতে হচ্ছে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ২০ শতাংশ, ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৪০ শতাংশ এবং ৩১ মার্চের মধ্যে বাকি ৪০ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়।
অন্য কোনো শিল্পে এমন ব্যবস্থা নেই বলে দাবি করেন তিনি। বলেন, এক লাখ আট হাজার গুচ্ছ ফুট ইটের জন্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ভ্যাট দিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, খুলনা বিভাগে প্রায় এক হাজার ৫০০ এবং সারা দেশে সাড়ে আট হাজারের বেশি ইটভাটায় প্রায় ৫০ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান রয়েছে। শতভাগ রাজস্ব পরিশোধ করলেও পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়নের জটিলতায় শিল্পটি আজ হুমকির মুখে পড়েছে।
পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়নের শর্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ২০০৫ সালে ছাড়পত্র নেওয়ার সময় এক কিলোমিটার বা ৪০০-৫০০ মিটার দূরত্বসংক্রান্ত কোনো বিধান ছিল না। পরিবেশ দূষণ না ঘটলে শুধু দূরত্বের অজুহাতে লাইসেন্স নবায়ন বন্ধ রাখা যৌক্তিক নয়। এ বৈষম্যমূলক বিধান অবিলম্বে বাতিল বা স্থগিত করার দাবি জানান তিনি।
ব্লক ইটকে বিকল্প হিসেবে বিবেচনার বিষয়ে যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা বাবুল বলেন, ব্লক ইটের চাপ সহনক্ষমতা (পিএসআই) নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এছাড়া সিলেট থেকে এক ট্রাক বালু আনতেই প্রায় ৮০ হাজার টাকা পরিবহন ব্যয় হয়। উৎপাদন ব্যয় ও গুণগত মানের কারণে এটি এখনো কার্যকর বিকল্প হয়ে ওঠেনি।
আগে দেশে ১৮৮টি ব্লক ইট কারখানা থাকলেও বর্তমানে তা কমে ৬৭টিতে নেমে এসেছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র যদি মনে করে ইটশিল্প পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, তাহলে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার জন্য অন্তত পাঁচ থেকে সাত বছর সময় দিতে হবে। আর শিল্পটি চালু রাখতে চাইলে ভৈরবসহ বিভিন্ন নদ-নদী ও খাল খননের মাটি সহজে ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে প্রতিবাদ হিসেবে ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে দেশের সব ইটভাটায় উৎপাদন বন্ধ রাখা হবে।
সেলিম রেজা বাবুলের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি লুৎফর রহমান, খুলনা জেলা সভাপতি শাহাজান জমাদ্দার, মাগুরা জেলা সভাপতি রবিউল আলম, ঝিনাইদহ জেলা সাধারণ সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস, চুয়াডাঙ্গা জেলা সহসভাপতি হায়দার আলী, খাজা নাসির উদ্দিন শান্তি, আবুল হোসেন আজাদ, জিয়ারুল ইসলাম জিয়া ও করিমুল ইসলাম কুশল।