মেহেরপুর প্রতিনিধি
কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে উৎপাদন ও সরবরাহ কম হওয়ায় মেহেরপুরের পাইকারি বাজারে বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। বর্তমানে পাইকারি বাজারে ৯৫ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় বাজারে মরিচের সরবরাহ কম থাকায় কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে।
ব্যবসায়ী মকছেদ আলী ও রমজান আলী বলেন, বর্তমানে মেহেরপুর, গাংনী ও দেবীপুরের পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৯৫ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কয়েকদিন আগেও একই মরিচ ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে অনেক ক্ষেত থেকে সময়মতো মরিচ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে বাজারে আমদানি কমেছে, আর সেই সুযোগেই বেড়েছে দাম।
কৃষক রইছ উদ্দীন, ‘আকতারুল ইসলাম বলেন, সার বিষ, কীটনাশকসহ সব কিছুর দাম বেড়েছে। অথচ, আমরা ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি না। ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে চাহিদা স্বাভাবিক থাকলেও সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেশি দামে মরিচ কিনতে হচ্ছে তাদের।’
ফঁড়িয়া ব্যবসায়ী আবুল হাসেম ও সোহেল হোসেন বলেন, মেহেরপুরের উৎপাদিত কাঁচা মরিচ জেলার চাহিদা পূরণ করে প্রতিদিন পাঠানো হচ্ছে ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। মেহেরপুর, গাংনী ও দেবীপুরের পাইকারি বাজারে প্রতিদিন কয়েক হাজার কেজি মরিচের বেচাকেনা হয়। সকাল থেকে শুরু হয়ে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলে এসব বাজারের কার্যক্রম। তাদের আশা, আবহাওয়া অনুকূলে এলে আবারও বাড়বে মরিচের সরবরাহ, তখন বাজারে দামও কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তবে আপাতত সরবরাহ সংকট থাকায় কাঁচা মরিচের ঝাঁজ শুধু রান্নায় নয়, বাজারদরেও স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে।
জেলার অন্যতম বৃহৎ তিনটি পাইকারি কাঁচা মরিচের বাজার,মেহেরপুর, গাংনী ও দেবীপুর প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের পদচারণায় মুখর থাকে। স্থানীয়দের আশা, অনুকূল আবহাওয়া ফিরে এলে সরবরাহ বাড়বে এবং কাঁচা মরিচের বাজারেও স্বস্তি ফিরবে।