ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে শৈলকুপা উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নে গোকুলনগর গ্রামে এক কৃষকের ফলন্ত লাউক্ষেত কেটে সাবাড় করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রাতের আঁধারে ৩৩ শতক জমির প্রায় সব লাউগাছের গোড়া কেটে দেয়া হয়। এতে ওই কৃষকের প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আলমগীর হোসেন গোকুলনগর গ্রামের বাসিন্দা।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিদিনের মতো জমিতে গিয়ে দেখেন, কে বা কারা রাতের আঁধারে তার লাউক্ষেতের প্রায় সব গাছের গোড়া কেটে দিয়েছে। কয়েক মাসের পরিশ্রমে গড়ে তোলা খেতটি একেবারেই ধ্বংস হয়ে গেছে।
কৃষক আলমগীর বলেন, ‘এই জমির লাউ চাষই আমার সংসারের বড় একটি আয়ের উৎস ছিল। একদিন পরপর চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করতাম। সামনে আরও ভালো ফলনের আশা ছিল। কিন্তু এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেল। এখন কীভাবে এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠব, বুঝতে পারছি না।’

তিনি আরও বলেন, এটিই প্রথম নয়। গত বছরও একই জমির লাউগাছ কেটে দেওয়া হয়েছিল। তখন অনেক কষ্ট করে আবার নতুন করে চাষ শুরু করি। এবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটলো। যারা এ কাজ করেছে, তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, ‘ভোরে খবর পেয়ে আমরা জমিতে গিয়ে দেখি প্রায় সব গাছের গোড়া কেটে ফেলা হয়েছে। একজন কৃষকের কয়েক মাসের পরিশ্রম এভাবে নষ্ট করে দেওয়া খুবই দুঃখজনক। গত বছরও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।’
ফলন্ত সবজিক্ষেত কেটে দেওয়ার ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা রোধে দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন মালেক।
এ বিষয়ে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির বলেন, লাউক্ষেত কেটে দেওয়ার বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।