যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

বিনাখরচে মালয়েশিয়ায় যাবেন দশ হাজার কর্মী

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর,২০২৬, ১২:০১ এ এম
বিনাখরচে মালয়েশিয়ায় যাবেন দশ হাজার কর্মী

মালয়েশিয়ায় কর্মী হিসেবে যেতে আগ্রহীদের নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এবার দশ হাজার কর্মী বিনাখরচে মালয়েশিয়া যেতে পারবেন।

আগ্রহী কর্মীরা তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রক্রিয়া শেষ করতে পারবে। একই সঙ্গে অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে বৃহস্পতিবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমনটাই জানানো হয়েছে।

২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা অনুসারে রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন ও তালিকাভুক্ত করার দায়িত্ব মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের। এ ধরনের যোগ্যতার মানদণ্ড শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়; মালয়েশিয়া যেসব উৎসদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ করে, তাদের ক্ষেত্রেও দেশটির নিজস্ব নীতিমালা ও যোগ্যতার শর্ত রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মালয়েশিয়ার নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়। আলোচনার এক পর্যায়ে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ কিছু শর্তে নমনীয়তা দেখায়। এরপর ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। এ অবস্থায় বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে।

বর্তমান সরকার কী করেছে

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শ্রমবাজারগুলো আবার চালু এবং সম্প্রসারণের বিষয়কে অগ্রাধিকার দেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে মালয়েশিয়াকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর করেন মালয়েশিয়ায়। সরকারের অগ্রাধিকার ছিল, সর্বোচ্চ বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি কাজ করার সুযোগ পাবে এবং কর্মীদের স্বার্থ ও অভিবাসন ব্যয় সুরক্ষিত থাকবে। দেশটির মানদণ্ড ও বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক মেনেই এজেন্সির অংশগ্রহণ বাড়ানোয় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) ও ২৫টি বেসরকারি এজেন্সিকে প্রসেসিং এজেন্সি বা সার্ভিস এজেন্সি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এর সঙ্গে আরও ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। তালিকাভুক্ত এজেন্সি নিজেদের উদ্যোগে নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করতে পারবে; নিজেদের চাহিদাপত্র সংগ্রহ করতে পারবে; বাংলাদেশে নিজেদের কর্মী নির্বাচন করতে পারবে এবং নিয়ম অনুযায়ী সেই কর্মীদের নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় বলছে, বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ দশ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনাখরচে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছে। এটি বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

কর্মী নিয়োগপ্রক্রিয়া

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি বলছে, প্রথম ধাপে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমোদিত সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার থেকে নিজেদের উদ্যোগে চাহিদাপত্র সংগ্রহ করবে। যে এজেন্সি চাহিদাপত্র সংগ্রহ করবে, দ্বিতীয় ধাপে সেই এজেন্সি বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করে নিজের কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

তৃতীয় ধাপে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রশাসনিক প্রসেসিং প্রয়োজন হবে, যেমন কলিং ভিসা, ই-ভিসা বা অন্যান্য নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া, সেখানে বোয়েসেলসহ তালিকাভুক্ত অপর ২৫টি প্রসেসিং এজেন্সি প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। চতুর্থ ধাপে বিএমইটি (জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো) থেকে ছাড়পত্র নেবে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি। তালিকাভুক্ত যেকোনো এজেন্সি এটি করতে পারবে। অর্থাৎ যে এজেন্সির নামে চাহিদাপত্র আসবে, তার নামেই ছাড়পত্র করা যাবে। বিএমইটি ছাড়পত্রের জন্য অনুমোদিত এজেন্সিকে অনাপত্তিপত্র দিতে পারবে বোয়েসেলসহ আরও ২৫টি প্রসেসিং এজেন্সি।

কর্মীদের স্বার্থ কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে

মন্ত্রণালয় বলছে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে, কিন্তু সেই কর্মসংস্থানের জন্য একজন কর্মীকে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা বহন করতে দেওয়া যাবে না। একজন কর্মী যতটা সম্ভব সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পান, সেটাই চায় সরকার।

দেশের আইন মেনে এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে বেশি বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার আহ্বান জানানো হয়।

পরবর্তী পদক্ষেপ কী

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টার চূড়ান্ত করা একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক অনুসারে মেডিক্যাল সেন্টার চূড়ান্ত করার বিষয়টি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার যৌথ দায়িত্ব। বিদ্যমান মেডিক্যাল সেন্টারগুলো পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধিদল সরেজমিনে বাংলাদেশে এসে প্রতিটি মেডিক্যাল সেন্টার পরিদর্শনের পর চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।

এতে আরও বলা হয়, বর্তমানে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে থাকা তালিকাভুক্ত মেডিক্যাল সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব মেডিক্যাল সেন্টারগুলো বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে যাচাই-বাছাই করে এবং তাদের স্থানীয় নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য করবে। নতুন মেডিক্যাল সেন্টার যুক্ত করা হলে তা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

সূত্র: প্রথম আলো, আমার দেশ, যুগান্তর

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)