সুবর্ণভূমি ডেস্ক
গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে মে মাসে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে, গত মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পর সর্বোচ্চ।
এ ছাড়া টানা দুই মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি আছে।
রোববার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মে মাসের মূল্যস্ফীতির চিত্র প্রকাশ করেছে।
বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত—উভয় খাতেই মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। গত মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯.০৬ শতাংশে, যা এপ্রিল মাসে ছিল ৮.৩৯ শতাংশ।
গত বছরের (২০২৫) মে মাসে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৫৯ শতাংশ। অর্থাৎ গত এক মাসে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত খাতেও মূল্যস্ফীতির চিত্র ঊর্ধ্বমুখী। মে মাসে এই খাতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯.৭১ শতাংশে। এপ্রিল ২০২৬-এ এই হার ছিল ৯.৫৭ শতাংশ এবং এক বছর আগে অর্থাৎ মে ২০২৫-এ ছিল ৯.৪২ শতাংশ।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ফলে সীমিত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর খরচের চাপ আরেক দফা বাড়ল।
গত এপ্রিল ও মে মাসে দুই দফা জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। গত ১৯ এপ্রিল সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকার। প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা ও পেট্রলের দাম ১১৬ থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে।
পরে গত ৩১ মে আবারও এক দফা দাম বাড়ানো হয়। অবশ্য তা মে মাসের মূল্যস্ফীতি গণনায় প্রভাব ফেলতে পারেনি।
এ ছাড়া গত সপ্তাহে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে চলতি জুন মাসে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন।