সুবর্ণভূমি ডেস্ক
ভারত এখন বাংলাদেশের সাথে নমনীয় ও পেশাদার কূটনৈতিক উপায়ে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। কবি, কথাসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক মাহাবুব মোর্শেদ তার ফেসবুকে প্রকাশ করা একটি স্ট্যাটাসে এই মন্তব্য করেছেন। সুবর্ণভূমির পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের পরাজয় এবং রাষ্ট্রদূত দিনেশ ত্রিবেদীর বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিষয়ে ভারতীয় কূটনীতি শীঘ্রই একটা নতুন মোড় নিতে চলেছে।
একটু খেয়াল করলেই বোঝা যায়, বাংলাদেশ বিষয়ে অজিত দোভাল ও তার ফ্যাসিলিটিগুলো বেশ অস্থির হয়ে আছে। অন্যদিকে দিনেশ ত্রিবেদী বেশ রিল্যাক্সড। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যাতে ভারত সফর করেন সেজন্য দোভালপক্ষ রীতিমতো জোরজবরদস্তি করছে। আর দিনেশ ত্রিবেদী প্রায়দিনই নানা মন্ত্রী মিনিস্টারদের সঙ্গে দেখা করে নমনীয় কথাবার্তা বলছেন। জোরজবরদস্তির বাইরে মনজয়ের নীতি অবলম্বন করছেন।
এই দুই আচরণের পেছনে কী আছে?
বাংলাদেশসহ আশপাশের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত বিদেশ মন্ত্রক নির্ভর কূটনৈতিক উপায় অবলম্বন না করে সামরিক উপায় অনুসরণ করে। ফলে এ দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করে এনএসএ এবং র। অর্থাৎ স্বাভাবিক কূটনীতির বদলে এসব দেশে কৌশলগত সামরিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামরিক পদ্ধতি ফলো করা হয়।
ভারতের এই নীতি পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় ব্যাপকভাবে ফেইল করেছে। শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান বারবার ভারতের প্রভাববলয় থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। বলা হতো, অন্যক্ষেত্রে ফেইল করলেও বাংলাদেশে এ নীতি সফল। কিন্তু ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে অজিত দোভালের বাংলাদেশ নীতিও ফেইল করেছে। এখানে ক্ষমতার পালাবদলের ফলে ভারতের প্রভাব শুধু কমে যায়নি, বৈরী একটি পারস্পরিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর বোঝা হিসেবে শেখ হাসিনাসহ একগুচ্ছ আওয়ামী নেতা ভারতের কাঁধে চেপেছে।
ফলে ভারত আর এনএসএ ও র নির্ভর সম্পর্কের ওপর ভরসা করতে পারছে না। তাই এই বলয়ের বাইরে থেকে তারা একজন পেশাদার কূটনীতিককে না পাঠিয়ে সোজা একজন পলিটিশিয়ানকে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠিয়েছে।
ভারত রাজনৈতিক উপায়ে সমস্যা সমাধান করতে চায়।
অন্যদিকে এনএসএ ও র এস্টাবলিশমেন্ট রাজনৈতিক পদ্ধতিকে ব্যর্থ করে আবার নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়। দ্বন্দ্বটা মূলত এখানেই। অজিত বাবুর হাতে তুরুপের তাস শেখ হাসিনা। ফলে শেখ হাসিনাকে কথা বলিয়ে তিনি বারবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর পিছিয়ে দিচ্ছেন। বাংলাদেশ ভারতে তার এজেন্টরা প্রকাশ্যে এসে প্রতিদিন নতুন গুজব ছাড়ছে। ক্যু থেকে শুরু করে বাংলাদেশে ভারতের সামরিক অভিযান পর্যন্ত নানা কিছু বলে বাংলাদেশকে হুমকি দিয়ে চলেছে।
কিন্তু বাংলাদেশ মেসেজ যা পাওয়ার পেয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর যত বিলম্বিত হচ্ছে অজিত দোভাল ততো দুর্বল হচ্ছেন, খুলে যাচ্ছে পেশাদার কূটনীতির পথ। দোভলপন্থীদের সর্বশেষ গুজব হলো তাদের বসের বাংলাদেশ সফর। তারা বারবার বলছে, এই গুজবী সফরটাই ঢাকায় তার শেষ সফর। তারমানে বাংলাদেশে দোভালপর্ব শেষ। দিনেশ বাবু এ গুজব নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, এটা তো আমার মাথার ওপর দিয়ে গেল।
সামরিক সংস্থার ওপর প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্ক নির্ণয়ের ভার দেওয়া ভারতের ভাল নীতি নয়। এগুলো অস্থিতিশীলতা বাড়ায়। ফলে, তারা নীতি পরিবর্তন করে পেশাদার কূটনীতির লাইনে এলেই ভাল।
কিন্তু এই পরিবর্তনের বেদনাটা ফেস করতেই হচ্ছে এখন। কেননা, দোভালপন্থীদের এস্টাবলিশমেন্ট বেশ শক্তিশালী। তারা ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশকে কাবু করতে চায়। কিন্তু সেটা সফল হতে দেওয়া যাবে না।
নীতি পরিবর্তন করে মর্যাদাপূর্ণ বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করতে ভারতকেই হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। বাংলাদেশের ভরসা অর্জন করতে হবে। আশ্বস্ত হলে বাংলাদেশ অবশ্যই সে হাত ধরবে। কিন্তু এখন ভারতীয় নীতিতে পরিবর্তনটা খুব জরুরি।