যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

‘গ্রাফিতি কালি দিয়ে মুছে কখনো প্রতিবাদ হয় না’

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : রবিবার, ১১ অক্টোবর,২০২৬, ০৬:০২ পিএম
আপডেট : রবিবার, ১১ অক্টোবর,২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
‘গ্রাফিতি কালি দিয়ে মুছে কখনো প্রতিবাদ হয় না’

গ্রাফিতি কালি দিয়ে মুছে কখনো প্রতিবাদ হয় না। প্রতিবাদ হবে পাশে বা অন্য কোথাও গ্রাফিতি আঁকুন। বালতি ভর্তি কালি নিয়ে নয়, নিজের অবস্থান নিজে নিশ্চিত করুন। সম্প্রতি গ্রাফিতিতে কালি দেওয়ার ঘটনাটি এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন অ্যাক্টিভিস্ট জান্নাতুল ফেরদৌস। তিনি নিজের ফেসবুকে এই সংক্রান্ত যে স্ট্যাটাসটি দিয়েছেন, তা সুবর্ণভূমির পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:

শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে দশজন মানুষের মুখ এঁকেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। নজরুল, লালন, জয়নুল আবেদিন, এস এম সুলতান, জহির রায়হান, শাহ আবদুল করিম, হুমায়ূন ফরীদির পাশে আছেন রবীন্দ্রনাথ, বিদ্যাসাগর আর সত্যজিৎ রায়। শনিবার দুপুরে সেই ছবিতে কালি দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। তাঁদের একজন রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের সভাপতি আ ন ম আয়াস।

দেয়ালটা নিয়ে প্রশ্ন আছে, আর প্রশ্নগুলো ফেলনা নয়। দশজনের মধ্যে একজনও নারী নেই। রোকেয়া নেই, সুফিয়া কামাল নেই। বাংলাদেশের আরও অনেক লেখক-শিল্পীর জায়গা হতে পারত। তালিকা কে বানাল, কীসের ভিত্তিতে বানাল, তা জানতে চাওয়া নাগরিকের অধিকার।

কিন্তু প্রশ্ন তোলা এক জিনিস, কালি ঢালা আরেক জিনিস। দেয়ালে কার ছবি থাকবে, কে আঁকবে, কে মুছবে, এগুলো সিদ্ধান্তের বিষয়। সিদ্ধান্ত ভুল মনে হলে সিটি করপোরেশনকে চিঠি দিন। সভা ডাকুন, লিখুন, পাল্টা তালিকা দিন। পাশের দেয়ালে নিজেরা আঁকুন। এটাই সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ। অন্যের আঁকা মুখে কালি মাখানোর অধিকার কেউ কাউকে দেয়নি। কালি দিয়ে মুছে দেওয়ার ওরা কে?

রবীন্দ্রনাথকে শুধু ‘পশ্চিমবঙ্গের’ বলে ঠেলে দেওয়াও চলে না। শিলাইদহ, শাহজাদপুর, পতিসরের মাটিতে বসে তিনি লিখেছেন। যে বর্ণমালায় আমরা লিখি, তা গুছিয়ে দিয়েছেন বিদ্যাসাগর। সত্যজিতের পূর্বপুরুষের ভিটা কিশোরগঞ্জে। ভাষার গায়ে কাঁটাতার বসে না।

এবার আয়াসের কথা। কে এই আয়াস? দ্রব্যমূল্যের আগুনে মানুষ পু/ড়ছে, তা নিয়ে তাঁর কোনো কর্মসূচি আছে? নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়ে আছে? রাষ্ট্রগঠনের প্রশ্নে আছে? নাকি যে ইস্যুতে হাত দিলে সহজে বিতর্ক বাঁধে, ক্যামেরা আসে, শুধু সেখানেই তাঁকে পাওয়া যায়?

ওই ফুটপাত থেকেই কদিন আগে হকার উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের পেটের ভাতের প্রশ্নটা এই বিতর্কে কোথাও নেই। আছে শুধু কার মুখ থাকবে আর কার মুখ কালো হবে, সেই টানাটানি।

এগুলো দেশের পক্ষের কাজ নয়। এতে চালের দাম কমে না। রাস্তায় মেয়েরা নিরাপদ হয় না। শুধু মানুষ ভাগ হয়। তাই সন্দেহ জাগে, কোনো বিশেষ পক্ষের হয়ে বিতর্কটা বানানো হচ্ছে কি না।

আপনারা কেউ এ ধরনের কাজে নিজেকে জড়াবেন না। আপত্তি থাকলে বলুন, লিখুন, দাবি তুলুন। কালির বালতি হাতে নেবেন না। নিজের অবস্থান জানুন, পরিষ্কার থাকুন।

 

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)