সুবর্ণভূমি ডেস্ক
বহুবিধ নাগরিক সমস্যায় জর্জরিত যশোর পৌরসভার কয়েকটি এলাকার মানুষ যেন মেনেই নিয়েছেন তাদের এসব সমস্যার কোন সমাধান নেই। পুরদেহ জুড়ে 'ক্রনিক ক্ষত' উপেক্ষা করে একের পর এক রাজনীতিক-জনপ্রতিনিধিরা তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন।
যশোর পৌর এলাকার এমনি এক 'ক্রনিক ক্ষত' শাহ আবদুল করিম রোড।
গুরুত্বপূর্ণ এই জনপথটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট নাগরিকদের দুর্ভোগে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন যশোরের সাবেক যুব সংগঠক জাকির হোসেন পলাশ। সমাজসচেতন ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী পলাশ তার ফেসবুক আইডিতে এ বিষয়ে এক নাতিদীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
সুবর্ণভূমির পাঠক ও পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য জাকির হোসেন পলাশের স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
যে ছেলে বা মেয়েটি ২৫ বছর আগে এ অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেছে, সে জন্ম থেকেই দেখছে রাস্তার বেহাল দশা! ২৫ বছরে দেশের অনেক কিছুর পরিবর্তন হলেও পরিবর্তন হয়নি খড়কীর দুর্দশাগ্রস্থ মানুষের একমাত্র চলাচলের এই রাস্তাটি।

অনেকবার এলাকার মানুষ পৌরসভা ঘেরাও, প্রতিবাদ সমাবেশ, স্মারকলিপি, ইত্যাদি কর্মসূচি পালন করেছে।
২৫ বছরে পৌরসভার অনেক চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক, মেম্বার, কমিশনার, কাউন্সিলর এসেছেন, দেখেছেন আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি!
তবে এলাকার মানুষ অনেকটা আশায় বুক বেঁধেছিল -বর্তমান পৌর প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর -অতি দ্রুত টেন্ডার সম্পন্ন করে কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেই কাজের ধীরগতি এতটাই যে গত ২ বছরে ৩০ ভাগ কাজও সম্পন্ন করতে পারেননি। ছোট্ট একটি নমুনা শুনলেই বোঝা যাবে কাজের ধীরগতির অবস্থা -গত ২৮ মে "২৬ ঈদুল আযহা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদের ১৫ দিন পূর্বেই ঠিকাদারের লোকজন ঈদের ছুটি কাটাতে চলে যান, আজ ১১ই জুন '২৬ এখনো ঠিকাদারের লোকজন ছুটি কাটিয়ে আসেননি, কবে আসবেন! কিম্বা আদৌও আসবেন কিনা এটা ঠিকাদার বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই ভালো বলতে পারবেন। আর অনেকটা কাকতালীয় ব্যাপার এই যে বৃষ্টি শুরু না হলে ঠিকাদার যেন কাজ ধরতেই চান না! খড়কী (জেবিন) মোড়ে একটি অসম্পূর্ণ কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে, একটু বৃষ্টি হলেই নতুন কালভার্টটি ডুবে যাচ্ছে, এবং সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারছেন না এখানে একটি কালভার্ট আছে! যার কারণে বৃষ্টি হলেই প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে এলাকার সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুরা। আজ লক্ষ্য করলাম খড়কী কবরস্থান ও খড়কী পোস্ট অফিস কোয়াটারের মধ্যবর্তী স্থানে নতুন একটি কালভার্ট নির্মাণের জন্য মাটি খোঁড়া হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা না করে একটু আশা-ভরসার এই সংযোগ সড়কটিরও যদি কাজ শুরু করা হয় তাহলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের আর শেষ থাকবে না।

আবার আজ থেকে শুরু হয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকার ড্রেন থেকে কাদা, ময়লা উত্তোলন ও রাস্তার পাশে জড়ো করা। যদিও এটা অনেক ভালো কাজ, তবে বর্তমানে বৃষ্টির কারণে সময়োপযোগী নয়।
একেতো রাস্তার বেহাল দশা -তার উপরে বৃষ্টির জলাবদ্ধ পানি তার ওপর আবার রাস্তার ওপর ফেলা দুর্গন্ধময় আবর্জনা ও কাদা। এলাকাবাসীর কি করা উচিত আমার বোধগম্য নয়! যশোর পৌরসভার নথি অনুযায়ী দেখা যায় নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫ নম্বর (সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড) ওয়ার্ডের বাসিন্দারাই সর্বাধিক নিয়মিত পৌর ট্যাক্স পরিশোধ করে থাকেন।
দক্ষিণবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ এই রোডেই অবস্থিত। যার কারণে এলাকার অনেক মানুষই বাড়ি ভাড়া এবং ছাত্র-ছাত্রী মেস ভাড়ার ওপরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। এই দুর্ভোগের জন্য এলাকার মেস, বাড়িভাড়া এমনকি জমিজমা ক্রয়বিক্রয়ও দীর্ঘদিন বন্ধ আছে। সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ সরজমিন পরিদর্শন করে সার্বিক বিবেচনায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত করণীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে এলাকাবাসীর স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ করবেন।
সৃষ্টির মধ্যেই মানুষ বাঁচে -আর সে সৃষ্টি যদি মানবকল্যাণে হয়, তার চেয়ে বড় কিছু আর নেই।