সুবর্ণভূমি ডেস্ক
লিওনেল স্কালোনি আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করার পর থেকেই শুরু হয়েছে নানা বিশ্লেষণ। কেমন হলো আর্জেন্টিনার স্কোয়াড, আর এই দল নিয়ে তারা কি শেষ পর্যন্ত শিরোপা ধরে রাখতে পারবে? আলবিসেলেস্তাদের এই স্কোয়াড বিশ্লেষণ করলে যেমন শক্তির বেশ কিছু দিক চোখে পড়ে, তেমনি রয়েছে কিছু শঙ্কার জায়গাও।
আর্জেন্টিনার এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি এর অভিজ্ঞতা। লিওনেল মেসি ছাড়াও এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, রদ্রিগো দি পল, অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টার ও এনজো ফার্নান্দেজের মতো তারকাদের কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে। গত চার বছরে এই খেলোয়াড়েরা আরও পরিপক্ব হয়েছেন।
অনেকের মতে, ম্যাক আলিস্টার, এনজো ও দি পল ত্রয়ী বর্তমানে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ মিডফিল্ডগুলোর একটি। বল দখল, প্রেসিং ও ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ—সবখানেই এই মাঝমাঠ দারুণ শক্তিশালী।
গত কয়েক বছরে একটি বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা এবং একটি ফিনালিসিমার ট্রফি জিতে আর্জেন্টিনা নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা সময় পার করছে। ফলে বড় ম্যাচ জয়ের এক অপরাজেয় মানসিকতা তৈরি হয়েছে দলটির ভেতর।
কোচ স্কালোনির ওপর খেলোয়াড়দের অগাধ আস্থা এবং লিওনেল মেসির উপস্থিতি দলকে বাড়তি জ্বালানি দেবে। বিশেষ করে, এই বিশ্বকাপ দিয়েই হয়তো আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাতে চলেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার।
অধিনায়কের বিদায়টা ট্রফি দিয়ে রাঙাতে সতীর্থরা যে নিজেদের উজাড় করে দেবেন, তা বলাই বাহুল্য। এছাড়া আক্রমণভাগে এবার হুলিয়ান আলভারেজ, লাওতারো মার্তিনেজের পাশাপাশি থিয়াগো আলমাদা, নিকো পাজ বা হোসে ম্যানুয়েল লোপেজের মতো একাধিক বিকল্প থাকায় কেবল মেসি-নির্ভরতা অনেকটাই কেটেছে।
ফেবারিট হিসেবে টুর্নামেন্টে নামলেও আর্জেন্টিনার জন্য কিছু চিন্তার কারণও রয়েছে, মেসির বয়স এখন ৩৮ পেরিয়ে গেছে। বিশ্বকাপের আগে তাঁর বাঁ হ্যামস্ট্রিংয়ের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ ও ক্লান্তির খবর সামনে এসেছে। মেসি শতভাগ ফিট না থাকলে দলের ধার অনেকটাই কমে যায়।
রক্ষণভাগ চোট ও বয়সের ভারে কিছুটা নুয়ে পড়েছে। বিকল্প যারা আছেন, তাদের অভিজ্ঞতায় ঘাটতি স্পষ্ট। পাশাপাশি, আনহেল দি মারিয়ার মতো 'বড় ম্যাচের খেলোয়াড়ে'র আন্তর্জাতিক অবসরজনিত অভাব টুর্নামেন্ট যত গড়াবে, তত বেশি অনুভূত হতে পারে।
১৯৬২ সালের পর বিগত ৬৪ বছরে আর কোনো দল টানা দুটি বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। স্পেনের তরুণ দল, ফ্রান্সের স্কোয়াডের গভীরতা, ইংল্যান্ডের শক্তিশালী মিডফিল্ড কিংবা ব্রাজিলের গতিময় ফুটবল—সব মিলিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীরা এবার আরও শক্তিশালী।
তবে ফুটবল ইতিহাস বলে, সব কঠিন পরিস্থিতি জয় করেই কিংবদন্তিরা অমরত্ব পান। ১৯৬২ সালে পেলের ব্রাজিল যা করে দেখিয়েছিল, ২০২৬ সালে এসে মেসির আর্জেন্টিনা তা পুনরাবৃত্তি করতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।